মাখন বা বাটার শব্দটি শুনলেই খাদ্যদ্রব্যের কথা মাথায় আসে আমাদের। তবে যারা সৌন্দর্য সচেতন তাদের কাছে বাটার শব্দটির ভিন্ন অর্থও আছে। সেটি হলো গায়ে মাখার মাখন। অর্থাৎ “বডি বাটার। এই বাটার খাওয়া যায় না, এটি গায়ে মাখতে হয়ে। এটি গায়ে মাখলে ত্বক হয় মসৃন।
বাজারে নানা রকম ব্র্যান্ডের “বডি বাটার” পাওয়া যায়। তবে অনেক বেশি। তাই সবাই ইচ্ছে থাকলেও এটি ব্যবহার করতে পারেন না। যদিও এই সমস্যারও আছে সমাধান। আপনি ঘরে বসে নিজেও বানিয়ে ফেলতে পারেন বডি বাটার। চলুন, জেনে নেওয়া যাক বডি বাটার তৈরির দুটি পদ্ধতি সম্পর্কে-
নারকেল তেলের ‘বডি বাটার’
প্রথমে এক কাপ নারকেল তেলে এক চা-চামচ আমন্ড অয়েল মিশিয়ে নিন। এরপর তাতে ৮ ফোঁটা ভিটামিন সি এসেনশিয়াল অয়েল মেশাতে হবে। ভালো করে তেল মিশিয়ে নিয়ে সারা রাত ফ্রিজে রেখে দিন। নারকেল তেল জমে যাবে। এবার তাতে এক চামচ কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন বা চামচ দিয়ে জোরে জোরে ফেটাতে হবে, যাতে মিশ্রণটি নরম ও ক্রিমের মতো হয়ে যায়। এবার কাচের জারে সেটি ভরে রেখে দিন। প্রতিদিন গোসলের আগে বা রাতে ভালো করে মালিশ করলে ত্বক নরম হবে, ব্রণ-ফুস্কুড়ির সমস্যাও দূর হবে।
দোকানের মতো ‘বডি বাটার’
এক্ষেত্রে প্রথমে শিয়া বাটার আধা কাপ, কোকো বাটার আধা কাপ, নারকেল তেল আধা কাপ, আমন্ড অয়েল আধা কাপ মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর গ্যাসে কম আঁচে তেলের মিশ্রণ গরম করতে নিন। তেল ফুটে গেলে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। এটি ফ্রিজে রেখে দিতে হবে সারা রাত। তেল জমে যাবে। এর পর তাতে এক চামচ ভিটামিন ই তেল, ২০-৩০ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার বা রোজ়মেরি তেল মিশিয়ে নিতে পারেন। তার পর ভালো করে ব্লেন্ড করতে হবে। হাতেও ফেটিয়ে নিতে পারেন। মিশ্রণটি ক্রিমের মতো হয়ে গেলে সেটিকে কাচের জারে ভরে রাখুন।
প্রসঙ্গত, বডি বাটার নিয়ম করে মাখলে ত্বক নরম তো হবেই, সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি থেকেও ত্বককে বাঁচানো যাবে। রোদে পোড়া দাগ বা দীর্ঘ দিনের দাগছোপ তুলতে এর জুড়ি মেলা ভার। এই মাখনের ভিটামিন এ ও ভিটামিন ডি ত্বকে পুষ্টি জোগায়। বলিরেখার সমস্যা দূর করে। অ্যান্টি-এজিং ক্রিম হিসেবেও এর তুলনা নেই। এগজ়িমা, স্ট্রেচ মার্ক, মেছতার দাগও দূর করতে পারে বডি বাটার।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা