প্রত্যেকটি নারীকেই প্রতিমাসে মাসিকের মতো কঠিন একটি সময় পাড়ি দিতে হয়। জন্মের ১১ বা ১২ বছর পর থেকে শুরু করে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে।অনেক মেয়েদেরই মাসিকের সময় ঘনিয়ে এলেই শুরু হয় আতঙ্ক।
মাসিক হলে তলপেটে ব্যথা তো কিছুটা হবেই, এমন কথা মুরুব্বিদের প্রায়ই বলতে শোনা যায়। কিন্তু বিপত্তি বাধে তখন, যদি ব্যথার মাত্রা হয় মাত্রাতিরিক্ত।
কেন হয় মাসিক
ঋতুস্রাব বা মাসিক হচ্ছে মেয়েদের প্রতিমাসের প্রাকৃতিক এবং নৈমিত্তিক জৈবিক প্রক্রিয়া।
জরায়ুর একেবারে অভ্যন্তরীণ আবরণী স্তরকে বলা হয় এন্ডোমেট্রিয়াল। এই স্তরটি প্রায় ২ থেকে ৪ মিলিমিটার পর্যন্ত পুরু হয়। এই স্তরটি কয়েকটি লেয়ারে বিভক্ত থাকে এবং সমগ্র রক্তনালীর সাথে যোগসূত্র স্থাপন করে।
কোনো নারী যদি গর্ভধারণ না করে তবে প্রজেস্টরোন হরমোন হ্রাস পায় এবং পুরু স্তরটি সংকুচিত হয়ে রক্ত অপসারণ করে। এই রক্ত শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াই মূলত মাসিক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, তলপেট বা পিঠের নিচের অংশে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হলে, অতিরিক্ত রক্তপাতে শরীর দুর্বল লাগলে, ব্যথার চোটে স্কুল, কলেজ বা অফিসে ছুটি নিতে বাধ্য হলে, রাতে ঘুম না এলে, কিংবা ব্যথানাশক ওষুধের উপর নির্ভর করতে হলে অবশ্যই সতর্ক হওয়া জরুরি।
এন্ডোমেট্রিওসিসের উপসর্গ অনেক সময় ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), বিভিন্ন ধরনের সিস্ট বা প্রদাহজনিত অন্যান্য সমস্যার সঙ্গে মিলে যেতে পারে। ফলে রোগটি শনাক্ত করতে অনেক সময় দেরি হয়।
কারও ক্ষেত্রে উপসর্গ তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে তীব্র ব্যথা ও অন্যান্য জটিলতায় দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হতে পারে।
কেন রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়?
ঋতুস্রাবের সময় ব্যথাকে অনেক ক্ষেত্রেই ‘স্বাভাবিক’ বা সহ্য করার মতো বিষয় হিসেবে দেখা হয়। অভিভাবকরাও কখনও কখনও বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় অনেকে বছরের পর বছর ব্যথা সহ্য করে যান। ফলে এন্ডোমেট্রিওসিস শনাক্ত হতে কয়েক বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।
কী করবেন?
লক্ষণ লিখে রাখুন
কোন দিনে কতটা ব্যথা হচ্ছে, রক্তপাতের পরিমাণ কেমন, কী ধরনের ওষুধ খেতে হচ্ছে এবং ব্যথার কারণে দৈনন্দিন জীবনে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে-এসব লিখে রাখলে চিকিৎসকের জন্য রোগ নির্ণয় সহজ হতে পারে।
ব্যথাকে অবহেলা করবেন না
ঋতুস্রাবের ব্যথা যদি স্বাভাবিক কাজকর্ম, পড়াশোনা বা চাকরিতে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
দীর্ঘদিন ধরে তলপেটে ব্যথা, অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ঋতুস্রাব বা ঋতুস্রাবের সময় এমন ব্যথা হলে যাতে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়, দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী আলট্রাসাউন্ড, এমআরআই বা অন্যান্য পরীক্ষা করাতে পারেন। রোগের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসাও নির্ধারণ করা হয়।