ফিলিস্তিনের সমর্থনে আজ রবিবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজের ওপর হাজারো মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। মিছিলে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জও অংশ নেন।
রবিবার (৩ আগস্ট) সিডনির প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ফিলিস্তিনের সমর্থনে মিছিল করেন। মিছিলের সময় বন্ধ হয়ে যায় সিডনির বিখ্যাত হারবার ব্রিজ।
অন্যদিকে, এই দিনই গাজা দখল করে সেখানে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ সার্বভৌম প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইটামার বেন-গাভির।
রবিবার জেরুজালেমের একটি বিতর্কিত জায়গায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেছেন ইটামার।
জেরুজালেমে “টেম্পল মাউন্ট” অবস্থিত। কিন্তু সেখানে ইসরায়েলিদের প্রার্থনা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। সেই নিয়ম ভেঙে এ দিন সেখানে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে যোগ দিয়েছিলেন ইটামার।
বস্তুত, হেবরনে ইসরায়েলিদের বসবাস নিয়ে বিতর্ক আছে। ইটামার নিজের দায়িত্বে সেখানে ইসরায়েলিদের বসবাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তিনি নিজেও হেবরনের কাছে একটি বিতর্কিত অঞ্চলে থাকেন। অতি দক্ষিণপন্থি এই নেতা এর আগেও গাজা দখলের হুমকি দিয়েছিলেন।
ত্রাণ নিয়ে হামাসের বক্তব্য
হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল ত্রাণের রাস্তা স্থায়ীভাবে খুলে দিলে বন্দি ইসরায়েলিদের কাছে তারা ত্রাণ পৌঁছে দেবে। বিবৃতি দিয়ে হামাস বলেছে, “আমরা রেডক্রসের যেকোনো অনুরোধ মেনে নিতে রাজি আছি। ইসরায়েল স্থায়ীভাবে ত্রাণের করিডোর খুলে দিলে আমরা শত্রুপক্ষের বন্দিদের কাছে ওষুধ এবং খাবার পৌঁছে দেবো।”
হামাসকে “সন্ত্রাসবাদী” সংগঠন বলে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ অনেক দেশ।
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আইসিআরসির কাছে জানিয়েছিলেন, গাজায় বন্দি ইসরায়েলিদের কাছে ওষুধ এবং খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
সম্প্রতি হামাস একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এনেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, হামাসের হাতে বন্দি ইসরায়েলি বন্দি এভিয়েটার ডেভিড একটি ভবনের নিচে সুড়ঙ্গের সামনে দাঁড়িয়ে গর্ত খুঁড়ছেন। তার শরীর একেবারে ভেঙে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি বলেছেন, নিজের কবর নিজেই তৈরি করে রাখছেন তিনি।
এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। প্রতিবাদ মিছিল হয়। তারপরেই নেতানিয়াহু রেডক্রসের সঙ্গে কথা বলেন এবং বন্দিদের কাছে যাতে ওষুধ এবং খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, সে বিষয়ে চাপ তৈরি করেন। বস্তুত, নেতানিয়াহুর ওই বক্তব্যের পরেই হামাস তার বিবৃতি প্রকাশ করলো।
সিডনির মিছিল
রবিবার সিডনি শহর ভরে গিয়েছিল ফিলিস্তিনের পতাকায়। প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সিডনি হারবার ব্রিজ পর্যন্ত মিছিল করেন। গাজায় যাতে ঠিকমতো ত্রাণ পৌঁছায় তার দাবি জানান প্রতিবাদীরা। অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আইন মানা হচ্ছে না গাজায়। সেখানে কৃত্রিমভাবে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। রান্না করার বাসন নিয়ে অনেকে মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন, দুর্ভিক্ষের প্রতীক হিসেবে একাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। এই মিছিলেই হাঁটতে দেখা যায় উইকিলিক্সের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান আসাঞ্জকে।
গত বছর যুক্তরাজ্যের একটি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান অ্যাসাঞ্জ। আজ বিক্ষোভের ছবিতে অ্যাসাঞ্জের পাশে তার পরিবারের সদস্যদের দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিউ সাউথ ওয়েলসের সাবেক নেতা বব কারও তার সঙ্গে ছিলেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ছিল ব্যানার। ওই সব ব্যানারে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর নিহত হওয়া হাজারো ফিলিস্তিনি শিশুর নাম লেখা ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলার জবাবে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা এড হুসিকও মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের নেতৃত্বাধীন সরকারকে আহ্বান জানান।