ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে মেঘভাঙার ফলে সৃষ্ট ভারি বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় চারজন নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার ধরালি গ্রামে মেঘভাঙার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেছেন যে প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, "ঘটনায় ৪০ থেকে ৫০টি বাড়ি ভেসে গেছে এবং ৫০ জনেরও বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।"
সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীসহবিভিন্ন উদ্ধারকারী দল উত্তরকাশী জেলার ধরলি গ্রামে পৌঁছেছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা গেছে, বিশাল এক জলরাশি ওই এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, যার ফলে ভবনগুলো ভেঙে পড়ছে। পর্যটন কেন্দ্র ধরলিতে অনেকে হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ রয়েছে।
সেনাবাহিনীর তথ্যমতে, ভূমিধস ও মেঘ ভাঙনের ফলে নিকটবর্তী সেনা ক্যাম্পের একটি অংশ এবং উদ্ধারকারী দলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মেঘভাঙন বা মেঘ বিস্ফোরণ হলো অল্প সময়ের মধ্যে একটি ছোট এলাকায় হঠাৎ করেই বৃষ্টিপাত, যা প্রায়শই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং ত্রাণ দল মোতায়েন করা হয়েছে।
উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর ধামি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘উত্তরকাশীর ধরালী এলাকায় বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। এসডিআরএফ, এনডিআরএফ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্য দলগুলো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এ বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সবার নিরাপত্তার জন্য আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি।’
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তরাখন্ডের মাতলি এলাকায় অবস্থানরত ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) ১২তম ব্যাটালিয়নের ১৬ সদস্যের একটি দল ধরালী পৌঁছেছে। একই ব্যাটালিয়নের ইউনিটকে দ্রুত ওই এলাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের নদীর তীর থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। পাশাপাশি শিশু ও গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।