২০২৭ সালে জাপানে চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি

জাপানের উড়োজাহাজ সংস্থা এএনএ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্টার্টআপের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ২০২৭ সালের শুরু থেকেই বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি চালু করা হবে। সংবাদমাধ্যম এএফপি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এএনএর এক মুখপাত্র জানান, এই এয়ারক্রাফট একজন পাইলটসহ চারজন যাত্রী বহন করতে পারবে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি হবে ৩২০ কিলোমিটার (২০০ মাইল)। ২০২৭ সাল থেকেই এই যানগুলো চালু করা সম্ভব হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এএনএ ও ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক জোবি এভিয়েশন যৌথভাবে পাঁচ আসনের ১০০টির বেশি এয়ার ট্যাক্সি চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।

এর আগে, মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এএনএর প্রেসিডেন্ট ও সিইও কোজি শিবাতা বলেন, “এয়ার ট্যাক্সি আমাদের আকাশপথে যাতায়াতে বিপ্লব ঘটাবে।”

তিনি জানান, এর মাধ্যমে টোকিওর নারিতা ও হানেদা বিমানবন্দরের সঙ্গে শহরের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে রুটের পরিসর বাড়ানোও সম্ভব হবে।

এএনএ আরও জানায়, বর্তমানে টোকিওর প্রাণকেন্দ্র থেকে নারিতা যেতে গাড়ি বা ট্রেনে প্রায় এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগে। কিন্তু জোবির পাঁচ আসনের এয়ার ট্যাক্সিতে যেতে লাগবে মাত্র ১৫ মিনিট।

আগামী অক্টোবর মাসে ওসাকা এক্সপোতে একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট প্রদর্শন করবে এএনএ ও জোবি। এয়ার ট্যাক্সিতে চলাচলের ভাড়া সম্পর্কে এখনও কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এএনএ এটি যথাসম্ভব সাশ্রয়ী রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মুখপাত্র।

জোবি এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জোবেন বেভার্ট বলেন, “জাপানে প্রাচীন জ্ঞান, কিংবদন্তিতুল্য কারুশিল্প ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। আর এ কারণেই আকাশযাত্রার ভবিষ্যৎ পুনর্নির্ধারণে জাপান একটি অসাধারণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।”

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জোবির এয়ার ট্যাক্সি হেলিকপ্টারের মতো উড়াল দেয়, এরপর বিমানের মতো সামনের দিকে উড়ে চলে। এতে শব্দ দূষণ নেই বললেই চলে এবং কোনো কার্বন নিঃসরণও হয় না।

এদিকে, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই আরেক উড়ন্ত ট্যাক্সি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভলোকপ্টার দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করে। এর কয়েকদিন আগে জার্মানির আরেক প্রতিষ্ঠান লিলিয়ামকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচানো হয়।

ভলোকপ্টার ২০২৫ সালেই তার দুই আসনের “ভলোসিটি” মডেল বাজারে আনতে চেয়েছিল। তবে চলতি গ্রীষ্মে প্যারিস অলিম্পিকে পরীক্ষামূলক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। কারণ সময়মতো তাদের এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনের অনুমোদন মেলেনি।