ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তার এ ঘোষণাটিকে ঈঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এমন এক সময়ে তিনি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন, যখন আক্ষরিক অর্থেই দেশটির সেনাবাহিনীর ভেতর ক্ষয় ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য হিল-এর বরাতে আলজাজিরা বলছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে নিজেদের ‘প্যাট্রিয়ট’ নামে পরিচিত আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অর্ধেকের মতো খুইয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্য আরও ৬ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের বিরাট একটি অংশ খরচ করে ফেলেছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) এর এক গবেষণার বরাতে দ্য হিল বলছে, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র আওতায় পরিচালিত এই বিশাল বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীতে বিরাট শূন্যতা তৈরি করেছে।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যাট্রিয়ট মিসাইলের মোট মজুতের প্রায় ৫০ শতাংশই শেষ হয়ে গেছে। থাড ইন্টারসেপ্টরেরও মোট তালিকার অর্ধেকেরও বেশি খরচ হয়ে গেছে। প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের মোট মজুতের ৪৫ শতাংশের বেশি এরইমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার পরই পাকিস্তানে হতে যাওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকটি আর হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
তবে যুদ্ধবিরতির বিষয়টিকে একটি 'চাল' হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী। তিনি বলছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো মূলত একটি আচমকা হামলার জন্য সময় বাগিয়ে নেওয়ার কৌশল।