ঝিনুকের খোলসে ট্রাম্পকে হত্যার 'হুমকি'

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাণহানির হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) সাবেক পরিচালক জেমস কোমি।

সমুদ্রসৈকতে ঝিনুকের খোলস সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি বিতর্কিত ছবিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে এই ফৌজদারি মামলা করা হয়।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ভার্জিনিয়ার একটি আদালতে হাজিরার সময় জেমস কোমি আত্মসমর্পণ করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। 

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জেমস কোমি তার ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। ছবিতে সমুদ্রসৈকতে ঝিনুকের খোলস সাজিয়ে "৮৬ ৪৭" লেখা ছিল। মার্কিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, ইংরেজিতে "৮৬" সংখ্যাটি আমেরিকান স্ল্যাং হিসেবে কাউকে 'সরিয়ে ফেলা' বা 'হত্যা করা' অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর "৪৭" দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্দেশ করা হয়েছে।

কোমি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই সংখ্যাগুলোর কোনো নেতিবাচক অর্থ তার জানা ছিল না। তার আইনজীবী প্যাট্রিক ফিটজজেরাল্ড এই বিচার প্রক্রিয়াকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং মামলাটি খারিজের আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, কোমি জেনেশুনে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে প্রেসিডেন্টের প্রাণহানি বা শারীরিক ক্ষতির হুমকি দিয়েছেন। প্রতিটি অভিযোগের জন্য তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "অপরাধজগৎ সম্পর্কে কারও সামান্য ধারণা থাকলেও সে ৮৬-এর অর্থ জানবে। এটি মাফিয়াদের একটি শব্দ, যার অর্থ হত্যা করা। যখন তারা কাউকে খুন করতে চায়, তখন তারা এই শব্দটি ব্যবহার করে।" 

এর আগেও কোমির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে মিথ্যা বলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল, যা গত অক্টোবরে খারিজ হয়ে যায়। নতুন এই অভিযোগটি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফার আইনি পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কোমিকে এফবিআই প্রধানের পদ থেকে বরখাস্ত করেছিলেন। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান। ট্রাম্প বারবার তার বিরুদ্ধে মামলা করার আহ্বান জানিয়েছেন।