পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হলেও এবারের বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল ঘিরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন এক ধোঁয়াশা। ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’, ‘সি ভোটার’ কিংবা ‘সিএসডিএস’-এর মতো দেশের নামী সমীক্ষক সংস্থাগুলো এবার পশ্চিমবঙ্গের আসন সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো পূর্বাভাস দিতে এক প্রকার অনীহা প্রকাশ করেছে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির নেপথ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের চাপ এবং শেয়ারবাজারের স্বার্থ কাজ করছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রতিটি বড় নির্বাচনে ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ রাজ্যভিত্তিক বিস্তারিত আসন সংখ্যার হিসাব দিলেও এবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তারা অনেকটা নিশ্চুপ। সংস্থার কর্ণধার প্রদীপ গুপ্ত জানিয়েছেন যে রাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে জনমনে এক ধরনের ভয়ের বাতাবরণ তৈরি হওয়ায় পর্যাপ্ত নমুনা পাওয়া সম্ভব হয়নি বলে তাঁর দাবি। অন্যদিকে ‘সি ভোটার’-এর যশোবন্ত দেশমুখ ভোট শেয়ারের ইঙ্গিত দিলেও আসনের নির্দিষ্ট হিসাব দেননি। তাঁদের মতে, এবার লড়াই এতটাই হাড্ডাহাড্ডি যে আসন সংখ্যার ঝুঁকি নেওয়া কঠিন। তবে ‘সিএসডিএস’ এই পুরো বিষয়টি নিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে নীরব রয়েছে।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নীরবতা ও অন্যান্য কিছু সংস্থার বিজেপির জয়ের পূর্বাভাসকে সরাসরি চাপের রাজনীতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কোনো রকম রাখঢাক না রেখেই তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নির্দেশে এ ধরনের সমীক্ষা করা হয়েছে। বিজেপির জয় দেখানো হচ্ছে। এসব করা হচ্ছে বিরোধীদের মনোবল ভেঙে দিতে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই নীরবতা বা প্রভাব বিস্তারের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো শেয়ারবাজারের ধস ঠেকানো। দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “সত্যি ফল দেখালে, মানে তৃণমূল কংগ্রেস জিততে চলেছে দেখালে শেয়ারবাজারে ধস নামত। মোদি-শাহ সেটা চাননি। তাই সমীক্ষকদের বলে দেওয়া হয়েছে, বুথফেরত জরিপে যেন বিজেপির জয়ই দেখানো হয়।”
বিগত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতার কথা টেনে তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, “২০১৬, ২০২১ ও ২০২৪ সালের ভোটেও বিজেপি এই কায়দা করেছিল। সমীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাপ দিয়ে বলানো হয়েছিল, বিজেপি জিতছে। ফল কী হয়েছিল, সবার জানা। এবারও তৃণমূল কংগ্রেস ২২৬টি আসন জিতছেই। সেটা ২৩০ আসনও হতে পারে।”