তামিলনাড়ুতে ভোট গণনা শুরু হওয়ার ঘণ্টা দুয়েক পর অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল তামিলাগা ভেতরি কাজাগাম (টিভিকে) এর বড় জয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার (৪ মে) রাজ্যটিতে ২৩৪টি আসনে ভোট গণনা চলছে। বর্তমানে ৮৫টি আসনে এগিয়ে থাকা টিভিকে এবং ৭৭টি আসনে এগিয়ে থাকা এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
অপরদিকে কংগ্রেস ও ডিএমডিকের সঙ্গে জোটবদ্ধ শাসক দল ডিএমকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে পা রাখা থালাপতি বিজয় পেরাম্বুরে দৃশ্যতই এগিয়ে আছেন। তবে পূর্ব তিরুচিরাপল্লিতে তার দল কিছুটা পিছিয়ে আছে। ফলে তার নির্বাচনী অভিষেকে বেছে নেওয়া ডিএমকের দখলে থাকা এই দুটি আসনে ভোটারদের রায়ে বিভক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তামিল চলচ্চিত্র জগতের সুপারস্টার জোসেফ সি. বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয়ের রাজনীতিতে প্রবেশ ও তার দল টিভিকের আত্মপ্রকাশ ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে বেশ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছিল, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ডিএমকে জোট ও এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের মধ্যে।
১২ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্র পেরাম্বুর, চেন্নাই উত্তর লোকসভা আসনের উত্তর চেন্নাইয়ে অবস্থিত। প্রায় দুই লাখ ২২ হাজার ভোটার নিয়ে এটি একটি শহুরে এলাকা। এখানে রাজনীতির ঐতিহ্য বেশ পুরোনো।
সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে এই আসনটি দখলে রেখেছে ডিএমকে। ২০২১ সালে ডিএমকের আর.ডি. শেখর ৫২.৫৩% ভোট পেয়ে সহজেই জয়ী হন এবং পিটিএমকের এন.আর. ধনবালানকে পরাজিত করেন, যিনি প্রায় ২৫.১০% ভোট পেয়েছিলেন।
সংবাদমাধ্যমে পেরাম্বুর আসনটিকে একটি যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, কারণ বিজয় এটিকে তার প্রথম নির্বাচনী এলাকা হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং উত্তর চেন্নাইয়ে ডিএমকের শক্ত ঘাঁটিতে সরাসরি তাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
‘থালাপতি’ নামে পরিচিত বিজয়ের তামিলনাড়ু জুড়ে বিশাল ভক্ত রয়েছে। তার রাজনৈতিক দর্শন প্রচলিত জাতভিত্তিক বিভাজনকে স্বীকার করে না, যা তাকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। বিশেষ করে, এমন এক রাজ্যে যেখানে জাতিগত রাজনীতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তার ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয়তা তাকে বিভিন্ন শ্রেণির ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে, বিশেষ করে তরুণ ও শহুরে ভোটারদের মধ্যে।
নতুন দল টিভিকের প্রধান হিসেবে বিজয় ডিএমকের দখলে থাকা আরেকটি আসন তিরুচিরাপল্লি পূর্ব থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুটি অনিরাপদ আসন থেকে ভোটে লড়াই করার তার এই সিদ্ধান্ত আক্রমণাত্মক কৌশলেরই ইঙ্গিত দেয়, যার লক্ষ্য হলো বিভিন্ন অঞ্চলে শাসক দলের বিরুদ্ধে নিজের জনপ্রিয়তা পরীক্ষা করা। নতুন দল টিভিকে একাই ২৩৪টি আসনের সবগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।