ভেঙে যাচ্ছে কানাডা? গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে স্বাধীনতার আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে

কানাডার তেলসমৃদ্ধ পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আলবার্টায় স্বাধীনতার আন্দোলন নতুন এক মোড় নিয়েছে। প্রদেশটিকে কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের লক্ষে গণভোট আয়োজনের দাবিতে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি গণস্বাক্ষর জমা দিয়েছে স্বাধীনতাকামীরা।

বুধবার (০৬ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে তারা প্রায় ৩ লাখ মানুষের স্বাক্ষর জমা দিয়েছে। আলবার্টার নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের গণভোট বিবেচনার জন্য ১ লাখ ৭৮ হাজার স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলেও সংগৃহীত সমর্থন সেই লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। স্বাধীনতাকামী নেতা মিচ সিলভেস্টেয়ার এই ঘটনাকে আলবার্টার ইতিহাসে একটি ‘যুগান্তকারী মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রায় ৫০ লাখ মানুষের এই প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকার অটোয়ার প্রতি তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ আলবার্টার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় জলবায়ু নীতি এবং পরিবেশগত কড়া বিধিনিষেধের কারণে প্রদেশটির অর্থনৈতিক স্বার্থ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মতে, অটোয়া আলবার্টার অর্জিত সম্পদ ব্যবহার করলেও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রদেশটির গুরুত্বকে উপেক্ষা করে।

স্বাক্ষর জমা পড়লেও গণভোট আয়োজনের পথ এখনো বেশ কণ্টকাকীর্ণ। প্রথমত, নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে এই বিপুল পরিমাণ স্বাক্ষর যাচাই-বাছাই করতে হবে। তবে আদালতের একটি আদেশে বর্তমানে যাচাই প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। দ্বিতীয়ত, আলবার্টার আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটের প্রশ্নটি যদি চূড়ান্ত ব্যালটে স্থান পায়ও, তবে স্বাধীনতার পথ হবে দীর্ঘ ও জটিল। এর জন্য কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কঠিন দরকষাকষি এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে।

বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, আলবার্টার মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ বর্তমানে কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার পক্ষে। তবে সমর্থন কম থাকলেও এই গণভোটের দাবি প্রদেশটির রাজনীতিতে গভীর মেরুকরণ সৃষ্টি করছে। আগামী অক্টোবর মাসে একটি সম্ভাব্য বৃহত্তর গণভোটের অংশ হিসেবে এই স্বাধীনতার প্রশ্নটি ভোটারদের সামনে আসতে পারে।

আদালতের রায় এবং আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে উত্তর আমেরিকার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ।