এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সৌদি-কুয়েতের কঠোর পদক্ষেপ

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ পাহারার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত নৌ-অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। সৌদি আরব ও কুয়েত তাদের আকাশসীমা এবং সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (০৭ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ব্যবহার কিংবা সৌদি আরবের আকাশসীমা দিয়ে মার্কিন যুদ্ধবিমান ওড়ার অনুমতি দিতে সরাসরি না করে দিয়েছে সৌদি আরব। শুধু সৌদিই নয়, কুয়েতও তাদের দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও আকাশসীমা এই অভিযানে ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। মূলত ট্রাম্পের আকস্মিক ও একতরফা এই ঘোষণা উপসাগরীয় মিত্রদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত রোববার ট্রাম্প যখন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করেন, তখন সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো অনেকটা অপ্রস্তুত ছিল। ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বললেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। সৌদি আরবের এক কর্মকর্তা জানান, সবকিছু এত দ্রুত ঘটছে যে সমন্বয় করার সুযোগ পাওয়া যায়নি। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন যে ট্রাম্প আগে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন এবং পরে মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন, যা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রিয়াদের নেতৃত্ব এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পনাটিতে সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করার ঠিক এক দিন পরই ইরান এই অঞ্চলে তাদের সক্রিয় প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা ঘোষণা করেছে যে, হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে জ্বালানি, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তাসহ সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের মিত্রদের কাছ থেকে এমন সরাসরি প্রত্যাখ্যান হোয়াইট হাউসের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পরাজয়। এটি ওই অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব এবং নিরাপত্তা কৌশলের ক্ষেত্রে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।