সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। আজ শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) রাজ্য বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
শুক্রবার (০৮ এপ্রিল) রাজ্যের ২০৭ জন জয়ী বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে অমিত শাহ এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় আটটি পৃথক প্রস্তাব এলেও প্রতিটি প্রস্তাবেই শুভেন্দু অধিকারীর নাম ছিল। বিকল্প কোনো নাম না আসায় এবং সবার পূর্ণ সমর্থনে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
অমিত শাহ বলেন, ‘‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় কোনো নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হলেও কেউ আবেদন করেননি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করছি।’’
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী জোড়া জয় তুলে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছেন। কলকাতার ভবানীপুর আসনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন তিনি। পাশাপাশি নিজের পুরোনো আসন নন্দীগ্রামেও বড় ব্যবধানে জয় লাভ করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার মমতার খাসতালুক ভবানীপুরে গিয়ে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বড় জয় ছিনিয়ে আনা শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথকে আরও সুগম করেছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই এবং তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্তরণ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। খুব শীঘ্রই তিনি রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন এবং শপথ গ্রহণের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসবেন।
বিজেপির এই বিশাল জয়ের পর এখন সবার নজর শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভা এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের দিকে।