এবার নতুন রুপে ফিরে আসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অভিযোগে সরাসরি আইনি লড়াইয়ে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী এই সহিংসতা বন্ধ এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও বুলডোজার চালানোর বিরুদ্ধে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শুনানিতে অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হন তিনি। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।  

দীর্ঘদিন পর পেশাদার আইনজীবীর পোশাকে আদালতে হাজির হয়ে সবাইকে চমকিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুনানি চলাকালীন তিনি আদালতকে জানান যে ১৯৮৫ সাল থেকেই তিনি একজন নিবন্ধিত আইনজীবী। এবারের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর বর্তমানে তিনি বিধায়ক পদে নেই। তবে দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি আইনজীবী হিসেবেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আদালতে শুনানিতে অংশ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘু এবং তফসিলি জাতির মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। বয়স্ক থেকে শুরু করে তরুণদের ঘরছাড়া করা হয়েছে এবং তৃণমূলের দেড় শতাধিক দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আদলে কলকাতায় বুলডোজার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে এটা বাংলা এবং উত্তরপ্রদেশ নয়। তাই বাংলাকে বাঁচাতে হবে।

তৃণমূলের আইনজীবীরা আদালতে আবেদন জানান যেন আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ছাড়া রাজ্যে কোনো ধরনের বুলডোজার চালানো না হয়। রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর নির্যাতন বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে অস্থিরতা শুরু হয় যেখানে সহিংসতায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।