চীন এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও বোয়িং জেট আমদানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “চীন কেবল মার্কিন পণ্য কেনার বড় প্রতিশ্রুতিই দেয়নি, বরং তেহরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা না দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছে।”
ট্রাম্পের মতে, চীনও চায় না ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক। শি জিনপিং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, চীন ইরানকে কোনো সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করবে না।
একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়েও চীন একমত হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “চীন ওই অঞ্চল থেকে প্রচুর তেল আমদানি করে, তাই তারাও চায় এই জলপথটি নিরাপদ থাকুক।” এমনকি এই সমস্যা সমাধানে শি জিনপিং মধ্যস্থতা সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
চীন ২০০টি মার্কিন বোয়িং জেট বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বোয়িং ১৫০টি বিক্রি করতে চেয়েছিল, কিন্তু শি জিনপিং ২০০টি বড় বিমানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এতে আমেরিকায় প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানান ট্রাম্প।
তিনি আরও জানান, চীন এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানিতে রাজি হয়েছে। এখন টেক্সাস, লুইজিয়ানা এবং আলাস্কা থেকে চীনা জাহাজে করে তেল পাঠানো হবে। এছাড়াও চীন বিপুল পরিমাণ মার্কিন সয়াবিনসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য কিনবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখন অত্যন্ত চমৎকার উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “শি জিনপিং একজন উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ।”
তিনি আরও বলেন, “শি পুরোপুরি পেশাদার... তার মধ্যে কোনো লুকোচুরি নেই। এটি একটি ভালো দিক।”
এবারের বাণিজ্য আলোচনা আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, “গতবার স্বাক্ষরিত ৩৬টি চুক্তির চেয়ে এবারের সমঝোতাগুলো অনেক বড়। চীন এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিনসহ প্রচুর পরিমাণে কৃষিপণ্য কিনবে।”
চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আসলে কী চায় - এমন প্রশ্নের জবাবে বিস্তারিত না বলে ট্রাম্প বলেন, “অনেক কিছু আলোচনার আছে, তবে তালিকাটি বেশ দীর্ঘ।”
বেইজিংয়ের এই সফর ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ককে ট্রাম্প আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ‘সেরা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।