ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নতুন কিছু নীতিমালার কারণে এবার পবিত্র ঈদুল আজহার (কোরবানির ঈদ) আগে আকস্মিকভাবে গরু কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্রেতারা। এর ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের হিন্দু সম্প্রদায়ের গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ ও কঠোর শ্রমে লালন-পালন করা বড় বড় গরুগুলো ঈদের বাজারে বিক্রি করতে না পেরে খামারিদের মধ্যে হাহাকার তৈরি হয়েছে। পুরো বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মহাকরণ থেকে বের হয়ে আসার পর কোরবানি ও গরু নিয়ে তৈরি হওয়া বর্তমান জটিল পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
জবাবে তিনি বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী পুরো বিষয়টি নিজে দেখছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুব তাড়াতাড়ি কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার। তবে পুরো বিষয়টির ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বিস্তারিত জানাবেন।
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় ছিল, যেখানে শুধুমাত্র কোরবানির ঈদে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ নিজ খামারে গরু মোটাতাজা করতেন। এই বাণিজ্য নিয়ে অতীতে তারা কখনো কোনো ধরনের আইনি বা সামাজিক সমস্যায় পড়েননি।
তবে সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নবগঠিত বিজেপি সরকার রাজ্যজুড়ে একটি কড়া নির্দেশনা জারি করে। নতুন এই সরকারি নীতিমালায় বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া রাজ্যটিতে কেউ কোনো গরু এবং মহিষ জবাই করতে পারবেন না। একই সাথে জবাইযোগ্য গরুর বয়স বাধ্যতামূলকভাবে কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে।
সরকারের এই নতুন ও কঠোর আইনি শর্তাবলীর কারণে আইনি জটিলতা এড়াতে এবার ঈদের হাটে মুসলিম ক্রেতারা গরু কেনা থেকে সম্পূর্ণ বিরত রয়েছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পশুর হাটগুলোতে। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে যারা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু প্রস্তুত করেছিলেন, সেই হিন্দু ব্যবসায়ীরা এখন ক্রেতার অভাবে দিশেহারা। ঈদের আর মাত্র অল্প কয়েকদিন বাকি থাকায় খামারিরা বড় ধরণের আর্থিক লোকসানের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো বিকল্প বা সহজ সমাধান আসে কিনা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।