‘ওয়াশিংটনের চাপে’ ইমরান খানকে অপসারণ করা হয়

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে দেশটির পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি গোপনীয় কূটনৈতিক নথি ইমরান খানের অভিযোগগুলোকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে। 

নথির তথ্যমতে, তার ক্ষমতাচ্যুতির পেছনে একটি ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রের’ ইঙ্গিত রয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তদন্ত সংস্থা ‘ড্রপ সাইট’ এই নথি প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির চাঞ্চল্যকর তথ্য বলছে, ইমরান খানকে অপসারণের পেছনে ‘ওয়াশিংটনের ভূমিকা’ অন্যতম। 

সোমবার (১৮ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। 

কেবল আই-০৬৭৮ নামে পরিচিত এই নথিতে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডোনাল্ড লুর বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। 

২০২২ সালের এপ্রিলে মেয়াদপূর্তির প্রায় দেড় বছর আগে ইমরান খানকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আর এই ঘটনার এক মাস আগে সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। 

‘ফাঁস’ হওয়া তথ্য অনুসারে, ওয়াশিংটনের বিদ্বেষের পাত্র হয়েছিলেন ইমরান খান। 

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে ইমরানের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার বিষয়টি ওয়াশিংটনের অসন্তুষ্টির মূল কারণ। বার্তা অনুযায়ী- ডোনাল্ড লু মত দেন, ইমরানকে সরিয়ে দেওয়া হলে ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও ভালো হতে পারে। 

নথিতে লু’র বরাত দিয়ে বলা হয়, “আমার মতে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ভোট সফল হলে ওয়াশিংটন সব কিছু ক্ষমা করে দেবে।” 

সাবেক তারকা ক্রিকেটার থেকে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, পাকিস্তানের শাসক পরিবর্তনের নেপথ্যে ‘কলকাঠি নাড়ছে’ ওয়াশিংটন। 

নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার ইচ্ছা এবং রাশিয়া-চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতিবাচক অবস্থানের সঙ্গে সুর মেলাতে অনীহার কারণেই ‘দূর থেকে মাথা ঘামিয়েছে’ ওয়াশিংটন। 

২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে হেরে বিদায় নিতে বাধ্য হন ইমরান খান। এর আগে, দেশটির কোনো নেতাকে এমন সংকটের মুখোমুখি হতে হয়নি। তবে, ইমরান তার পূর্বসুরিদের মতো পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার আগেই অপসারিত হন। 

এরপর ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়। তারপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। 

বিভিন্ন সময়ে তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতাকর্মীরা রাজপথে উপস্থিতি দেখানোর চেষ্টা করেন। এসব কারণে নানা রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধের সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।