হঠাৎ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

ভারতের নতুন প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’র উদ্বেগ, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক হতাশাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামে নতুন একটি অনলাইনভিত্তিক গ্রুপ। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে দলটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে প্রায় দেড় কোটি, যা ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অনুসারীকেও অতিক্রম করেছে। রাজনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংকট এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হাস্যরসাত্মক কনটেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই প্ল্যাটফর্মটি।

মুঠোফোনের ওপর একটি তেলাপোকার প্রতীক ব্যবহার করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নিজেদের পরিচয় দিয়েছে “অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর” হিসেবে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে জানান, ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য থেকেই এই নামের অনুপ্রেরণা আসে। পরে সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে বসবাস করা দিপকে বলেন, ভারতের মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনায় যুবসমাজের বাস্তব সংকটগুলো অনুপস্থিত। কর্মসংস্থানের অভাব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আবাসন সংকট এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা নিয়ে তরুণদের হতাশা বাড়ছে, কিন্তু তাদের কথা শোনার মতো কার্যকর প্ল্যাটফর্ম নেই। সিজেপি সেই শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করছে।

গ্রুপটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও, গ্রাফিকস ও ব্যঙ্গধর্মী পোস্টে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নারী প্রতিনিধিত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট এবং প্রশ্নফাঁসের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি জাতীয় মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লাখো শিক্ষার্থীর ক্ষতির বিষয়টিও তারা সামনে এনেছে।

বিশ্বব্যাপী পরিচালিত এক জরিপেও ভারতের জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরির সীমিত সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তরুণদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ ও নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা টানা হলেও সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা স্পষ্ট করেছেন, তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক সীমার মধ্যেই থাকবে। তবে তিনি এটিকে ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

ইতোমধ্যে গুগল ফর্মের মাধ্যমে চার লাখের বেশি মানুষ সিজেপির সদস্য হওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, যাদের অধিকাংশের বয়স ১৯ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। সদস্য হওয়ার জন্য মজার ছলে চারটি ‘যোগ্যতা’ও নির্ধারণ করা হয়েছে—বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সবসময় অনলাইনে থাকতে হবে এবং ক্ষোভ প্রকাশে দক্ষ হতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম শুধু হাস্যরস নয়; বরং তরুণ সমাজের জমে থাকা হতাশা, ক্ষোভ এবং প্রতিনিধিত্ব সংকটের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও সামনে আসছে।