ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার বললেন, তাড়াহুড়ো না করে গোটা বিষয়টি নির্ভুলভাবে করতে। ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলার ২৪ ঘণ্টাও না কাটতেই এমন ঘোষণা এলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
রবিবার (২৫ মে) আলোচনার দায়িত্বে থাকা মার্কিন প্রতিনিধিদলকে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা নিয়ে কোনো তাড়াহুড়োর দরকার নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এর আগে শনিবার (২৪ মে) ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। কেবল ঘোষণার অপেক্ষা।
এতে ইরানে তিন মাস ধরে চলে আসা যুদ্ধ দ্রুত অবসানের আশা ফিকে হয়ে এলো বলেই মনে করা হচ্ছে।
চুক্তি নিয়ে কেন তাড়াহুড়ো করা চলবে না সে ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, “আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও অনেক বেশি পেশাদার এবং ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে। দুই পক্ষকেই পুরো বিষয়টি সময় নিয়ে নির্ভুলভাবে করতে হবে। এখানে কোনো ভুল করার অবকাশ নেই।”
রবিবার ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়েও আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। শনিবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসাবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে।
কিন্তু সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে তাতে সই না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর অবরোধ সম্পূর্ণভাবে কার্যকর থাকবে।”
এদিকে, ইরানের কর্মকর্তারাও আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছেও আছে, আবার অনেক দূরেও আছে।”
তার ভাষ্য, কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা এগোলেও এখনও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
জানা গেছে, আলোচনায় থাকা এই সমঝোতা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়। বরং বেশ কিছু জটিল বিষয়কে পরবর্তীতে আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সময়, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় করা হবে কিনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের সীমাবদ্ধতা চায়।
এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলছেন, এতে ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে। সিনেটর টেড ক্রুজ এই সম্ভাব্য চুক্তিকে ভয়াবহ ভুল বলে মন্তব্য করেছেন।
আর সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি হলে অপারেশন এপিক ফিউরির সব অর্জনই অর্থহীন হয়ে যাবে।
তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ললার বলেছেন, মার্কিন প্রশাসন ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে পেরেছে।