ইরানে নতুন করে হামলা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরে মাইন স্থাপনের চেষ্টায় নিয়োজিত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়। 

মঙ্গলবারের (২৬ মে) বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অবসানে কাতারের দোহায় কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ এই হামলা করে।    

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দোহায় অবস্থান করছেন। সোমবার সফরসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। তবে দ্রুত কোনো সমঝোতা হবে - এমন সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। 

এর আগে, নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সফল হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়া হবে। তবে প্রয়োজন হলে ইরানকে অন্য উপায়ে মোকাবিলার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।”

রুবিও আরও বলেন, “আলোচনার টেবিলে এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত, সময়ভিত্তিক আলোচনায় প্রবেশ করা। আমরা আশা করছি, এটি সফল হবে।”

গত সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। ট্রাম্প লেখেন, “এটি হয় সবার জন্য একটি বড় চুক্তি হবে, নয়তো কোনো চুক্তিই হবে না।”

এর কয়েক ঘণ্টা পরেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি থেকে নিজেদের সেনাদের সুরক্ষায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে একইদিনে ইরান জানায়, তারা নতুন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে একটি শত্রু স্টেলথ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছে, তা জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো।

এই হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে এটি চলমান শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবারের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ব্যক্ত করেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানান, অনেক বিষয়ে অগ্রগতি হলেও চুক্তি স্বাক্ষর এখনই আসন্ন - এমন দাবি কেউ করতে পারে না।  

উল্লেখ্য, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে মূলত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানায়, ইসরায়েলি হামলায় আহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই বর্তমানে একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করায় তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা আলোচনার গতিকে মন্থর করছে। 

এছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল অবমুক্ত করা এবং পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের মতো জটিল বিষয়গুলো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পথে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।