লেবাননে ইসরায়েলের হামলা জোরদার, নিহত ৩১

লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কিছু শিশুও রয়েছে। 

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে নিহত মানুষের এ সংখ্যা উল্লেখ করেছে বিবিসি। 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়ার পর এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিকে অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।  

নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে নেতানিয়াহু জানান, উত্তর ইসরায়েলের জনগণকে রক্ষা করতে এবং হিজবুল্লাহর আক্রমণ ঠেকাতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বড় আকারে স্থল অভিযান চালাচ্ছে এবং সীমান্ত সংলগ্ন নিরাপত্তা অঞ্চল আরও শক্তিশালী করছে।

গত রবিবার দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পরই মূলত হামলা আরও তীব্র করার এই নির্দেশনা আসে।    

আইডিএফ দাবি করেছে, তারা রাতভর লেবাননের মাশগারা ও বুর্জ আল-শামালিসহ বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর শতাধিক অবকাঠামো, ৯০টির বেশি অস্ত্র গুদাম ও নিয়ন্ত্রণকক্ষ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। জাতিসংঘের ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গের কাছাকাছি এলাকাতেও বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।

হামলায় মাশগারা এলাকার বেশ কিছু ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া সাত বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ওই একই হামলায় তার বাবা ও দুই বোন প্রাণ হারান।  

এদিকে ইসরায়েলের এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলের তিনটি ব্যারাক ও সামরিক পোস্টে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। দুই পক্ষের এই ক্রমাগত সংঘাতের কারণে সম্প্রতি হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। 

উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত ৩,১৮৫ জন নিহত হয়েছেন, এবং হিজবুল্লাহর হামলায় ২৩ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।