বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন-কে ১৯৫২ সালে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে এ প্রস্তাব বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি এ ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে আইনস্টাইনের কাছে প্রস্তাবটি পৌঁছে দেন। প্রস্তাবে বলা হয়, ইসরায়েল রাষ্ট্রের আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তবে ৭৩ বছর বয়সী আইনস্টাইন এ প্রস্তাব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। জবাবে লেখা চিঠিতে তিনি জানান, ইসরায়েল সরকারের এ আস্থায় তিনি গভীরভাবে সম্মানিত ও আবেগাপ্লুত হয়েছেন। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা মানুষের সঙ্গে প্রশাসনিকভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা তার নেই।
চিঠিতে আইনস্টাইন লিখেছিলেন, তিনি সারাজীবন বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করেছেন। ফলে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তার নেই। এ কারণেই তিনি নিজেকে ওই পদের জন্য উপযুক্ত মনে করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনস্টাইনের প্রত্যাখ্যানের পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অযোগ্যতার অনুভূতি নয়, তার রাজনৈতিক ও দার্শনিক অবস্থানও ভূমিকা রেখেছিল। তিনি জায়নবাদী আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন এবং ইহুদি জনগণের জন্য নিরাপদ আবাসভূমির ধারণাকে সমর্থন করতেন। তবে একই সঙ্গে আরব ও ইহুদিদের সমঅধিকারভিত্তিক সহাবস্থানের পক্ষেও ছিলেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, আইনস্টাইন ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সমর্থন করলেও জাতীয়তাবাদের চরম রূপ এবং রাজনৈতিক উগ্রবাদের সমালোচক ছিলেন। তিনি দেশটির কিছু চরমপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডেরও প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছিলেন।
গবেষকদের মতে, নবগঠিত রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আইনস্টাইনের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যদিও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট পদ মূলত আনুষ্ঠানিক ও প্রতীকী।
আইনস্টাইন শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব গ্রহণ না করলেও ইসরায়েল ও ইহুদি জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল গভীর। তবে তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন বিজ্ঞানী হিসেবে তার ভূমিকা রাষ্ট্র পরিচালনার চেয়ে জ্ঞানচর্চা ও মানবকল্যাণে বেশি কার্যকর হবে।
ফলে ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক প্রস্তাবগুলোর একটি হয়েও থেকে যায় ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সেই আমন্ত্রণ, যা বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন।