যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির ঘোষণা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের

চলমান সংঘাত বন্ধে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে একমত হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। 

রবিবার (১৪ জুন) সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। 

শেহবাজ জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। শেহবাজ শরিফের দাবি, চুক্তির মাধ্যমে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে।

এদিকে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি “সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে এবং শুক্রবার তা স্বাক্ষরিত হবে”, বলে জানিয়েছেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ট্রুথ সোশ্যালেও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি টোলমুক্তভাবে খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। তিনি এ সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইরানি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু, ইরানের তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ না করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন না করার অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইরানের পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তা, মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা বা অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন না করার বিষয়ও খসড়ায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব শর্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

চুক্তিটিকে ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করলেও ইরানের সামরিক কর্মকর্তারাও একে নিজেদের বিজয় হিসেবে তুলে ধরছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।