টিভি-সংবাদপত্রকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ সংবাদ উৎস সামাজিকমাধ্যম

বিশ্বজুড়ে মানুষ এখন খবর জানতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে খবর পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে অন্য সব উৎসকে ছাড়িয়ে গেছে সামাজিকমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্ম।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজম প্রতিবছর সংবাদমাধ্যমের গতিপ্রকৃতি নিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের শুরুতে ৪৮টি দেশের প্রায় এক লাখ মানুষের ওপর অনলাইনে একটি জরিপ চালায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউগভ। সেই জরিপের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

গবেষণায় নেতৃত্বে থাকা বিবিসির সাবেক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী জিম ইগান জানান, সংবাদমাধ্যমের পুরোনো ব্যবসায়িক মডেল এখন হুমকির মুখে। বৈশ্বিকভাবে ৫৪% মানুষ সামাজিকমাধ্যম ও ইন্টারনেট ভিডিও থেকে খবর জানছেন।

জরিপে অংশ নেওয়া ৫৪% মানুষ জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ভিডিও প্ল্যাটফর্ম থেকে খবর জেনেছেন। আর এআই চ্যাটবটগুলোকে হিসাবে ধরলে এই হার দাঁড়ায় ৫৬%।

অন্যদিকে, ৫২% মানুষ টেলিভিশনের খবর, ৫১% মানুষ সংবাদপত্রের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ এবং ২১% মানুষ রেডিওর কথা জানিয়েছেন।

অবশ্য ইউরোপের দেশগুলোতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ এখনও এগিয়ে রয়েছে।

বৈশ্বিক এই জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৩ জন জানিয়েছেন, তাদের খবর পাওয়ার প্রধান উৎস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ভিডিও প্ল্যাটফর্ম। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় অর্ধেক। কেবল ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের কাছে এখনও খবর পাওয়ার প্রধান মাধ্যম টেলিভিশন।

মূলধারার সংবাদমাধ্যমের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটগুলোর অবস্থাও বেশ করুণ। জরিপে অংশ নেওয়া কোনো বয়সী মানুষই সংবাদপত্রের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটকে খবরের প্রাথমিক উৎস হিসেবে উল্লেখ করেননি।

সংবাদপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয় করা কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা জরিপের তথ্যে স্পষ্ট। মাত্র ১৭% মানুষ জানিয়েছেন, অনলাইনে খবরের জন্য তারা টাকা খরচ করেন।

অন্যদিকে, মূলধারার সংবাদমাধ্যমের বদলে বিজ্ঞাপন বাজারের বিশাল একটি অংশ দখল করে নিয়েছে গুগল ও মেটার মতো টেক জায়ান্টগুলো।

এই প্রতিবেদনে গত কয়েক বছর ধরে চলা কয়েকটি প্রবণতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিও কনটেন্টের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি, ব্যক্তিপর্যায়ের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রভাব বৃদ্ধি এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা কমে যাওয়া এর মধ্যে অন্যতম। মাত্র ৩৭% মানুষ বলেছেন, তারা খবরের জন্য সংবাদমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখেন।

খবরের জন্য মানুষ এখন এআই চ্যাটবটের ওপরও বেশি নির্ভর করছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ১০% মানুষ জানিয়েছেন, তারা সপ্তাহে অন্তত একবার খবরের জন্য চ্যাটবট ব্যবহার করেন। গত বছর এই হার ছিল ৭%।