ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯৭১ জন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায়।
রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। দুর্গত এলাকাগুলোর সব জায়গায় জরুরি সেবা পৌঁছাতে পারেনি। উদ্ধারকারী দলগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মীরা বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। রাজধানীর বাসিন্দারা আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। ভূমিকম্পের পর অনেককে ধসে পড়া ভবন ও উপড়ে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ করতে দেখা যায়।
ফুটেজে আরও দেখা গেছে, লা গুইরা অঙ্গরাজ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত অবস্থায় ধুলায় ঢাকা তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রদ্রিগেজ লা গুইরাকে ‘দুর্যোগকবলিত এলাকা’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ব্যাপকসংখ্যক ভবন ধসে পড়ায় এটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।
তিনি জানান, উপকূলীয় লা গুইরায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদারে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই দিনের আলো কাজে লাগিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
রদ্রিগেজ বলেন, “সেখানে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং জীবন বাঁচাতে আমরা ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, লা গুইরার একটি হাসপাতালের বাইরে বহু মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের কেউ মাটিতে, আবার কেউ হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রদ্রিগেজ উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারী নির্মাণযন্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ অনুমোদিত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়ার পথে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে ক্যারিবীয় উপকূলের মোরন শহরের পশ্চিমে, দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে প্রথমে ৭.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, এর গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার।
মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মোরনের দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৬ কিলোমিটার দূরে এবং গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
এই ভূমিকম্প গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম। ভূমিকম্পের কম্পন পুরো অঞ্চলে অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পে দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরের ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলেও বিভিন্ন ভবন থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।