শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ২৫

শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে কারারক্ষী এবং কয়েদিদের মধ্যে দাঙ্গায় নিহত হয়েছেন ২৫ জন। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নেগোমবো কারাগারটিতে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০০ জন। বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সেনা মোতায়েন করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রবিবার সন্ধ্যায় শুরু হয়ে সোমবার সকাল পর্যন্ত দাঙ্গা চলমান ছিল।

দেশটির সংবাদমাধ্যম আদা দেরানা’র বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ২৫ জনের মধ্যে ২০ জন কয়েদি এবং ৫ জন কারারক্ষী ও কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া, আহতদের মধ্যেও কয়েদি এবং কারা প্রশসান কর্মকর্তা ও কারারক্ষী আছেন। আহতদের নেগোমবো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই হাসপাতালের চিকিৎসক পুষ্পা গামলাথ।

কারা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার সকালে কারাগারে বিচারাধীন কয়েদি এবং সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয় এবং এ সময় দুইজন নিহত এবং ৩৮ জন কয়েদি আহত হন। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে কারা প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে সংঘাতের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

কর্মকর্তারা জানান, কারাগারের বিভিন্ন অংশে সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে পাশের একটি অংশে থাকা নারী বন্দিরা রাতে একটি ভবনের ছাদে উঠে তাদের মুক্তির দাবি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, এ সময় ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে কয়েকজন নারী বন্দি আহত হন। সোমবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমান্ডো সদস্যদের ডাকা হলেও তাদের কারাগারের ভেতরে মোতায়েন করা হয়নি। কারাগারের বাইরে বন্দিদের স্বজনদের ভিড় জমে। একই সময়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শ্রীলঙ্কা বিমানবাহিনী ড্রোন ও একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা গুলির শব্দ শুনেছেন। এক পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম এএফপিকে বলেন, দাঙ্গা থামানোর চেষ্টা করার সময় চার কারারক্ষী নিহত হন। সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

নেগোমবো কারগারটিতে বর্তমানে ২,৪১৭ জন কয়েদি আছেন। কী কারণে এই সংঘাতের সূত্রপাত, তা জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। দাঙ্গার পর কারাগারের নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।