ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অনুপস্থিত ছিলেন তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
রোববার (৫ জুলাই) রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত জানাজায় দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা উপস্থিত থাকলেও মোজতবাকে দেখা না যাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানাজায় আলী খামেনির অপর তিন ছেলে, মাসউদ, মোস্তফা ও মেইসাম উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রধান আহমাদ ওয়াহিদিসহ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
ইরানের বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার সময় মোজতবা খামেনিও আহত হয়েছিলেন। চলতি বছরের মার্চের শুরুতে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা গত শুক্রবার শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে শোকানুষ্ঠান চলবে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব কর্মসূচিতে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নেবেন। সরকার এ আয়োজনকে ‘শতাব্দীর সেরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনার পাশাপাশি নিরাপত্তা উদ্বেগও সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির কারণেই তাকে জনসমক্ষে আনা হয়নি। এ কারণে পুরো শেষকৃত্য ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরান-ইসরাইলের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, খামেনির শেষকৃত্য উপলক্ষে ইরান-সম্পর্কিত শান্তি আলোচনা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের বহু শীর্ষ কর্মকর্তা একত্রে উপস্থিত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়নি, কারণ ভবিষ্যৎ আলোচনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
জানাজায় অংশ নেওয়া কিছু মানুষের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী স্লোগান শোনা যায়। তেহরানের বিভিন্ন স্থানে ‘আমরা প্রতিশোধ নেব’, ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ এবং ‘নেতানিয়াহুকে হত্যা করো’ লেখা ব্যানারও দেখা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বিপুল জনসমাগমের কারণে গ্র্যান্ড মোসাল্লা ও আশপাশের চিকিৎসাকেন্দ্রে চার হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
শেষকৃত্যে আলী খামেনির কফিনের পাশে একই হামলায় নিহত তার পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক বছর বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানিও ছিলেন।