গণপরিবহনে সাধারণ যাত্রীদের নিত্যদিনের ভোগান্তি কাছ থেকে দেখতে ছদ্মবেশে বের হয়ে নিজেই এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন ভারতের কর্ণাটকের রাজ্য পরিবহনমন্ত্রী বাইরাথি সুরেশ। ১০০ রুপির নোটের ভাঙতি দিতে না পারায় এক বাস কন্ডাক্টর খোদ মন্ত্রীকেই বাস থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
রবিবার (১২ জুলাই) দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত শনিবার (১১ জুলাই) রাতে রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর গণপরিবহন ব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে ছদ্মবেশ ধারণ করেন মন্ত্রী। মুখে মাস্ক পরে সাধারণ এক যাত্রীর বেশে তিনি হেব্বাল থেকে নাগাশেট্টিহাল্লিগামী ‘বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের’ (বিএমটিসি) একটি বাসে ওঠেন। বাসে উঠে দুটি টিকিটের জন্য কন্ডাক্টরের হাতে তিনি ১০০ রুপির একটি নোট তুলে দেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, কন্ডাক্টর তার কাছে খুচরা রুপি চাইলে মন্ত্রী জানান যে তার কাছে কোনো ভাঙতি নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কন্ডাক্টর নিজের ব্যাগ দেখিয়ে পর্যাপ্ত খুচরা রুপি না থাকার অজুহাত দেন এবং ভাঙতি না থাকলে মন্ত্রীকে সোজা বাস থেকে নেমে যেতে বলেন। মুখে মাস্ক থাকায় কন্ডাক্টর বিন্দুমাত্র ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে ওই সাধারণ যাত্রীটি আর কেউ নন, খোদ রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী। কোনো প্রতিবাদ না করে কন্ডাক্টরের কথামতো চুপচাপ বাস থেকে নেমে যান বাইরাথি সুরেশ।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মন্ত্রী বেঙ্গালুরুর জয়মহল, টিভি টাওয়ার, আরটি নগর, সিবিআই রোড, হেব্বাল, মান্যতা টেক পার্ক, নাগাওয়ারা, হেন্নুরসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে সরেজমিনে পরিবহন সেবা পর্যবেক্ষণ করেন।
বাসের ঘটনার পর অল্প দূরত্বের জন্য মন্ত্রী একটি অটোরিকশাতেও ওঠেন। নাগাশেট্টিহাল্লি এলাকায় পৌঁছানোর পর মিটারে ভাড়া ৩০ রুপি দেখালেও অটোরিকশাচালক মন্ত্রীর কাছে ৩৬ রুপি দাবি করেন। বাড়তি ভাড়ার কারণ জানতে চাইলে চালক জানান, মিটারটি পুনরায় ক্যালিব্রেট বা সেট করা হবে। শেষ পর্যন্ত কোনো রকম তর্কে না গিয়ে চালককে ৪০ রুপি পরিশোধ করেই অটোরিকশা থেকে নেমে যান পরিবহনমন্ত্রী।