তাজমহলের নিচে কি মন্দির ছিলো, কী বলছে ইতিহাস?

ভারতের ঐতিহাসিক স্থাপনা তাজমহলকে ঘিরে আবারও নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাজমহলের স্থানে আগে একটি হিন্দু মন্দির ছিল বলে দাবি করে জরিপের আবেদন জানিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে গেছেন এক বিজেপি নেতা। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-কে নোটিশ দিয়েছেন আদালত।

আবেদনকারীর দাবি, তাজমহলের বেসমেন্টে এমন কিছু প্রমাণ রয়েছে, যা সেখানে একসময় মন্দির থাকার ইঙ্গিত দেয়। এ কারণে পুরো স্থাপনায় জরিপ চালানোর অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

এর আগে একই আবেদন এলাহাবাদের একটি জেলা আদালতে করা হলেও সেটি খারিজ হয়ে যায়। পরে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আবেদনকারী।

হাইকোর্ট নোটিশ জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার ও এএসআইয়ের কাছে জানতে চেয়েছে, তাজমহলে জরিপের বিষয়ে তাদের অবস্থান কী।

তবে ইতিহাসবিদদের মতে, তাজমহল নির্মাণ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ইতিহাসে এ ধরনের দাবির কোনো প্রমাণ নেই। তাদের ভাষ্য, ১৯৬৫ সালের আগে তাজমহলকে ঘিরে এমন বিতর্ক দেখা যায়নি এবং এর নির্মাণ-ইতিহাসের পর্যাপ্ত নথিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে।

ইতিহাসবিদদের তথ্যমতে, ১৬৩১ সালে সম্রাট শাহজাহানের স্ত্রী মমতাজ মহলের মৃত্যুর পর তার স্মৃতিতে আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে তাজমহল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থাপনাটির জন্য নির্বাচিত জমি ছিল অম্বরের রাজা জয় সিংয়ের মালিকানাধীন। পরে সমমূল্যের অন্য জমির বিনিময়ে সেই জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়।

সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলের সরকারি ইতিহাসগ্রন্থ বাদশাহনামা অনুযায়ী, তাজমহলের নির্মাণকাজ ১৬৩২ সালে শুরু হয় এবং মূল স্থাপনার কাজ ১৬৪৮ সালে শেষ হয়। পরবর্তী কয়েক বছর ধরে অলংকরণ ও উদ্যানের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

ইতিহাসবিদ ড. রুচিকা শর্মা জানান, তাজমহল নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা কিংবদন্তি ও দাবি প্রচলিত হলেও সেগুলোর অধিকাংশের ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। তার মতে, তাজমহল নির্মাণস্থলে আগে মন্দির ছিল, এ দাবির পক্ষেও নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।