ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষা সংস্কার ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, যন্তর মন্তরের কাছে কেরালা হাউসের সামনে শিক্ষক, পরিবেশকর্মী ও আন্দোলনকারী সোনাম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এ অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অভিজিৎ দীপককে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। তবে পরে তিনি জানান, অভিজিৎকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।
রবিবার রাত থেকেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরে জড়ো হতে শুরু করেন। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার পর তারা পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে একাধিক দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রসঙ্গত, দিল্লির ‘যন্তর মন্তর’ একটি ঐতিহাসিক জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দির।
দলটির দাবি, সংসদ ভবন এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে। আন্দোলনকারীরা জানায়, প্রতিবাদস্থলের আশেপাশের এলাকায় সিগন্যাল জ্যামার ব্যবহার করা হয়েছে। যার ফলে বিচ্ছিন্ন রয়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দিল্লির কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের কাছে রেল ভবন এলাকায় পৌঁছে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ ওঠে।
আন্দোলনে অংশ নেন সোনাম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
এদিকে, সিজেপির সহ-প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ দাস জানান, আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডার (জেপি নাড্ডা) সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে তারা শিক্ষা সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
আলোচনায় সরকারের সম্মতি পাওয়ার পর সোনাম ওয়াংচুক অভিজিৎ দীপকেকে অনশন ভঙ্গ করার আহ্বান জানান। ওয়াংচুককে আগে হাসপাতলে নেওয়ার পর থেকেই অভিজিৎ অনশন শুরু করেছিলেন। তবে গীতাঞ্জলি আংমো জানিয়েছেন, সোনাম ওয়াংচুকের নিজস্ব অনশন কর্মসূচি এখনো অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে গীতাঞ্জলি আংমো বলেন, “এই সরকার জনবিরোধী। তাই আমাদের আন্দোলন চলবে।”
সম্প্রতি ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’র প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। পরে সেই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন কর্মসূচিতে যোগ দেন সোনাম ওয়াংচুক।