জমকালো আয়োজনে বিয়ের অনুষ্ঠান, চারপাশে ভিড় করেছেন গ্রামবাসী, বর-কনে বসে আছেন পাশাপাশি। কিন্তু এই বিয়ের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল ভিন্ন কনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার সাবেক স্বামীও। শুধু উপস্থিত থাকাই নয়, স্ত্রীর বিয়ের পুরো আয়োজন নিজে দাঁড়িয়ে করেছিলেন তিনি, এমনকি বিদায়পর্বেও ছিলেন পাশে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের সন্ত কবীর নগর জেলায় সম্প্রতি ঘটেছে এমন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
জানা গেছে, দেবরি গ্রামের বাসিন্দা বুদ্ধিরাম নিশাদ ও ফুলমতীর বিয়ে হয়েছিল প্রায় ২১ বছর আগে, ভালোবেসেই। তাদের সংসারে রয়েছে পাঁচ সন্তান, যাদের মধ্যে বড় ছেলের বয়স ১৮ বছর।
তবে কয়েক মাস আগে ফুলমতীর সঙ্গে ২৬ বছর বয়সী অবধেশের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আর তখন থেকেই স্বামী-স্ত্রীর সংসারে অশান্তি শুরু হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, দুই মাস আগে ফুলমতী অবধেশের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান, পরে পরিবারের বোঝানোয় বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু এতেও সংসারের অশান্তি থামেনি।
স্ত্রী আর সংসার করতে আগ্রহী নন এমন পরিস্থিতিতে শেষমেশ ভিন্ন এক সিদ্ধান্ত নেন বুদ্ধিরাম। স্ত্রীকে তার পছন্দের মানুষের সঙ্গেই বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত সপ্তাহে আশরাফপুর গ্রামের একটি শিবমন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় ফুলমতী ও অবধেশের বিয়ে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামের অনেক মানুষ।
এই অদ্ভুত বিয়ের সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল বুদ্ধিরামের উপস্থিতি তিনি শুধু অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন না, প্রচলিত রীতি মেনে স্ত্রীর বিদায়পর্বেও অংশ নেন।
ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বুদ্ধিরাম জানান, প্রায় ২১ বছর আগে ফুলমতীকে বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু এখন আর স্ত্রী তার সঙ্গে থাকতে আগ্রহী নন। তার ভাষায়, প্রতিদিনের ঘরোয়া অশান্তি নিয়ে বাঁচতে চান না বলেই স্ত্রী যার সঙ্গে থাকতে চেয়েছেন, তার সঙ্গেই বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি।
এই সিদ্ধান্ত স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি, ফলে কোনো মামলা বা আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।