হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তিনি জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
২৮ বছর বয়সী লেভিট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সর্বকনিষ্ঠ প্রধান মুখপাত্র। ট্রাম্পের অত্যন্ত অনুগত একজন সমর্থক হিসেবে পরিচিত তিনি। প্রায়ই উত্তপ্ত হয়ে ওঠা সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাবলীল ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে এসেছেন লেভিট।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, “আমাদের চমৎকার হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি এবং আমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন ক্যারোলিন লিভিট মাসের শেষে তার দায়িত্ব ছাড়বেন। এতে তিনি তার সুন্দর ছোট সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “ক্যারোলিন এখন আমার অন্যতম প্রধান বাইরের উপদেষ্টা হবেন এবং রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে একজন প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে থাকবেন।”
মে মাসে লিভিট তার দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের কথা জানান। মেয়েটির নাম ভিভিয়ানা। এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্পকে হত্যার কথিত চেষ্টার পর তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়া পিছিয়ে দিয়েছিলেন। এক বন্দুকধারী হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে ঢোকার চেষ্টা করার পর ওই কথিত হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে।
কাজে ফিরে আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লিভিটের পদত্যাগের ঘোষণা এলো।
পদত্যাগের ঘোষণা আসার ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিভিট বলেন, “হোয়াইট হাউসের পডিয়াম থেকে প্রেসিডেন্টের হয়ে কথা বলার এই বিশেষ দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করায় আমি প্রেসিডেন্টের কাছে কৃতজ্ঞ।”
তিনি বলেন, “উদারপন্থী সংবাদমাধ্যমকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাফল্য সম্পর্কে মার্কিন জনগণ যাতে সত্য জানতে পারে, তা নিশ্চিত করতে পেরে আমি আনন্দিত।”
লিভিট লিখেছেন, মেয়ের জন্মের পর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ‘আমি মনে মনে অনুভব করেছি, প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রয়োজনীয় সময় ও মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি আমার দুই ছোট সন্তানের যে সেরা মা প্রয়োজন, তা আমি হতে পারছি না।’
লিভিট ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সহযোগী। ২০২১ সালে শেষ হওয়া ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি তার প্রেস অফিসে কাজ করেন। পরে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
লিভিট প্রেস সেক্রেটারি থাকাকালে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের পুনরুজ্জীবন ঘটে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এসব সংবাদ সম্মেলন অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগের ধরণেও তার সময়ে বড় পরিবর্তন আসে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে লিভিট সাংবাদিকদের বিস্মিত করে ঘোষণা দেন, ওভাল অফিস ও এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের কাছাকাছি থেকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য কোন সাংবাদিকরা সুযোগ পাবেন, তা কোনো স্বাধীন সংবাদদাতা সংগঠন নয়, হোয়াইট হাউস নিজেই ঠিক করবে।
তিনি ডানপন্থী ও ট্রাম্পপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলোকেও সংবাদ সংগ্রহের অনুমতিপত্র পেতে সহায়তা করেন। এতে ব্রিফিং কক্ষে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমগুলোর উপস্থিতি কমে যায়। এসব সংবাদমাধ্যম সাধারণত আরও কঠিন প্রশ্ন করে থাকে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারে বেড়ে ওঠেন লিভিট। সেখানে তার পরিবার একটি আইসক্রিমের দোকান চালাত। ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পত্রিকায় তিনি একটি চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানান। একটি ক্লাসে এক অধ্যাপক ট্রাম্পের সমালোচনা করায় তিনি এ প্রতিবাদ করেন।
২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেসের একটি আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হন লিভিট। তার নির্বাচনী প্রচারের ভিত্তি ছিল ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকারের পক্ষে অবস্থান। এরপর ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে টেলিভিশনে দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে ট্রাম্পের প্রশংসা অর্জন করেন তিনি।
লিভিট রাজনীতিতে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আমাদের দেশ ক্রমবর্ধমান উগ্রপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির অস্তিত্বগত হুমকির মুখে। দলটি আমেরিকার সব মহান বিষয় ধ্বংস করতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, “আমার লড়াই নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। তবে তা এখনো শেষ হয়নি।”