ভারতের উত্তরাঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি সুড়ঙ্গে ভূমিধসের পর পানি ও ধ্বংসাবশেষ প্রবল বেগে ঢুকে অন্তত সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এই দুর্ঘটনায় এখনো তিনজন শ্রমিক ভেতরে আটকে আছেন বলে জানিয়েছে রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সুড়ঙ্গ থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আটকে পড়া বাকি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
চামোলির পিপলকোটি এলাকায় তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেড-র (টিএইচডিসি) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে হঠাৎ প্রবল বেগে স্রোত ঢুকে পড়ে।
পানির প্রবল স্রোত অনেক শ্রমিককে সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার পথের দিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বলে খবর বেরিয়েছে।
স্থানীয় বিধায়ক লাখপত বুটোলা বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা... পুরো প্রশাসনিক দল এবং আমার সব সহকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। উদ্ধারকাজে নিয়োজিতদের সার্বক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব কুমার বলেন, “সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গের ভেতর বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ও পানি প্রবল বেগে ঢুকে পড়ে।”
মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। ধামি বলেন, “তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঘটনার সার্বক্ষণিক খবর খবর নিচ্ছেন।”
জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিআরএফ) সদস্যরা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকা পড়া শ্রমিকদের খুঁজছেন।
গত কয়েক দিন ধরে জেলাটিতে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সোমবার নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্ট প্রবল স্রোতে জেলার নীতি ভ্যালি এলাকায় একটি সেতু ভেসে যায়।
ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কাদামাটি মেশানো বিপুল পরিমাণ পানি প্রবল বেগে নিচের দিকে নেমে এসে ধাতব সেতুটিতে আঘাত করছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পানির তীব্র স্রোত সেতুটিকে উপড়ে নদীর তীরের দিকে ঠেলে নিয়ে যায়।
এর আগে, গত মাসে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিকিম রাজ্যে আরেকটি সরকারি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কাজ করার সময় ২০ শ্রমিক নিহত হন।
২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডে একটি সুড়ঙ্গ ধসে ৪১ শ্রমিক ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। ১৭ দিন পর তাদের সবাইকে উদ্ধার করা হয়।
জুনে বার্ষিক মৌসুমি বৃষ্টি শুরুর পর থেকে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে শত শত মানুষ মারা গেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়ছে।