মারা গেছেন নরওয়ের রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে নরওয়ের রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড চিকিৎসাধীন অবস্থায় অসলোর জাতীয় হাসপাতালে মারা গেছেন। গত সপ্তাহে একটি বিরল রোগের চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো।   

ইউরোপের ক্ষমতাসীন রাজাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সী ছিলেন হ্যারাল্ড। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৯ বছর। ১৯৯১ সালে তিনি সিংহাসনে বসেন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অসলোর রাজপ্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজা হ্যারাল্ড শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পর প্রাসাদের রাজকীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। মৃত্যুর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজপরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় সাধারণ মানুষ প্রাসাদের সামনে ফুল রেখে রাজার আরোগ্য কামনা করেন।

পঞ্চম হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়ের নতুন রাজা হয়েছেন তার ছেলে হাকন (৫৩)। আজ তিনি সরকারের সঙ্গে এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলে বসবেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৩৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অসলোর কাছে স্কাউগুম রাজকীয় এস্টেটে জন্ম নেন হ্যারাল্ড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি নরওয়ে আক্রমণ করলে তিনি মা ও পরিবারের সঙ্গে প্রথমে সুইডেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন।

যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে পড়াশোনা ও সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করেন। ১৯৫৭ সালে যুবরাজ হন তিনি। বাবা রাজা পঞ্চম ওলাভের মৃত্যুর পর ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিংহাসনে আরোহণ করেন হ্যারাল্ড।

রাজপরিবারের চিরাচরিত ঐতিহ্য ভেঙে একজন সাধারণ পরিবারের নারীকে বিয়ে করে এবং দেশের কঠিন মুহূর্তগুলোয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাজা হ্যারাল্ড রাজতন্ত্রকে আধুনিক রূপ দিয়েছিলেন।

১৪ শতকের পর পঞ্চম হ্যারাল্ডই ছিলেন নরওয়ের মাটিতে জন্ম নেওয়া দেশটির প্রথম রাজা। দীর্ঘ ৩৫ বছর সিংহাসনে থাকা হ্যারাল্ড নরওয়েতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সংস্কারবাদী শাসক হিসেবে পরিচিত।