নেপালের রসুয়া অঞ্চল থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৩৮১ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৬৪৪ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
এরই মধ্যে তিব্বতের দিকে ভূমিধসে সৃষ্ট একটি হ্রদের পানি উপচে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে নেপালের ভোতে কোশি নদীতে নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকটি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে উদ্ধার অভিযানও বন্ধ রাখা হয়েছে।
শুক্রবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীর পানি নতুন করে বাড়তে শুরু করে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অনেকে পাহাড়ের উঁচু এলাকায় সরে যেতে শুরু করেন।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের ভিত্তিতে মৃতের সংখ্যা ৪৮৯ জন নিশ্চিত হয়েছে। আটটি জেলা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ১৮৬ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পূর্ব) ১১২ জন, গোর্খায় ৪৪ জন, ধাদিংয়ে ৪০ জন, নুয়াকোটে ৩৭ জন, তানাহুনে ২৯ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পশ্চিম) ২৮ জন এবং রসুয়ায় ১৩ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮১ জনের মধ্যে ৬৪৪ জন বিদেশি নাগরিক। তারা ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিক। এ ছাড়া বিদেশ থেকে নেপালে ভ্রমণে আসা ১২৭ জন প্রবাসী নেপালি এবং ১ হাজার ৭৩৭ জন স্থানীয় নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। তবে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।