ভূমিকম্পে কাঁপল চীন-নেপাল সীমান্ত, ফের জরুরি সতর্কতা জারি

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন করে হড়পা বানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চীনের সিচুয়ান প্রদেশে ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর নেপালের ত্রিশূলী নদী এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

চীনা আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টারের (সিইএনসি) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লংচাং শহরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। বেইজিং সময় দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ২৯ দশমিক ২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ১০৫ দশমিক ২২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১৩ কিলোমিটার।

লংচাং শহরটি সিচুয়ান প্রদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নেইজিয়াংয়ের প্রশাসনিক এলাকার অন্তর্ভুক্ত। শহরটি চংকিং পৌরসভার সীমান্তবর্তী এবং চেংদু ও চংকিংয়ের প্রায় মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত।

এদিকে, চীনে ভূমিকম্পের পর নেপাল পুলিশ ত্রিশূলী নদী এলাকার জন্য নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। ওপরের দিক থেকে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসায় নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে ত্রিশূলী এলাকার বাসিন্দাদের আবারও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, তিব্বতের দিকে একটি বাঁধ আবারও ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে ভোতে কোশী ও ত্রিশূলী নদীর পানি নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত সদস্যসহ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও নেপালে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, নেপালের পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭০ কিলোমিটার গভীরে। তবে ওই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার মধ্যে পরপর ভূমিকম্পের ঘটনায় নেপালে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ত্রিশূলীসহ বিভিন্ন এলাকায় হড়পা বানের আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নেপালের রসুয়া জেলায় সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় এ পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। আহত ও উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ৫৪৫ জনকে। এছাড়া নেপালে ৮২৬ জন এবং তিব্বতে আরও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়েছিল হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত থেকে। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে বন্যার কারণ মনে করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে ভূকম্পনজনিত শক্তি হিমবাহ ধসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানানো হয়।

নতুন করে পানির প্রবাহ বাড়ার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করেছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীদেরও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।