জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুখবর, ফের আটকে গেলো ট্রাম্পের উদ্যোগ

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।  

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যান নতুন নির্বাহী আদেশের একটি অংশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। এর আগে, ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রথম উদ্যোগও নাকচ করেছিলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।  

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন’র প্রতিবেদনে থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যান জানিয়েছেন, প্রশাসন নতুন এই নীতি কার্যকর করতে পারবে না। তবে নীতিটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলো নির্দেশনা তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আদেশে বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, “চলতি গ্রীষ্মে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছে। ওই রায়ের আলোকে নতুন নীতিটিও অসাংবিধানিক হতে পারে।”

এই নিষেধাজ্ঞা এমন শিশুদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে, যাদের ট্রাম্পের আগের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়িত হলে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া হতো না।

বুধবার ফক্স নিউজের উপস্থাপক লরা ইনগ্রাহামের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লঁশ বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের আগের রায় বিবেচনায় নিয়েই নতুন নির্বাহী আদেশটি তৈরি করা হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আদালত প্রশাসনের পক্ষে রায় দেবেন - এমনটা তারা আশা করেননি। তাই বিচারকের এই সিদ্ধান্ত তাদের কাছে বিস্ময়কর নয়।” প্রয়োজন হলে বিষয়টি নিয়ে আবার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করতে চেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, মা-বাবার অভিবাসনগত অবস্থান যা-ই হোক, দেশটির ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা সাধারণত জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পান।

আগস্টে জারি করা নতুন আদেশে বলা হয়, কোনো শিশুর মা-বাবার কেউই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হলে এবং তাদের একজন ‘শত্রু দেশের নাগরিক’, ‘বিদেশি সরকারের কর্মচারী’ অথবা কথিত ‘জন্ম পর্যটনের’ সঙ্গে যুক্ত থাকলে ওই শিশুকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।

তবে বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, “নতুন আদেশ কার্যকর হলে এমন শিশুরাও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যাদের মার্কিন নাগরিক হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে স্বীকৃতি দিয়েছে।”

সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় নিয়োগ পাওয়া বিচারক বোর্ডম্যান জানান, একই নীতির বিরুদ্ধে নিউ হ্যাম্পশায়ারেও একটি মামলা চলছে।

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করাকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি এ বিষয়ে প্রথম নির্বাহী আদেশ জারি করেন। ওই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী বা সাময়িক অনুমতিতে থাকা মা-বাবার সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব না দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

তবে চলতি গ্রীষ্মে সুপ্রিম কোর্ট ওই উদ্যোগকে অসাংবিধানিক বলে বাতিল করেন। এরপর ট্রাম্প নতুন করে আরেকটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এবার সেই আদেশের একটি অংশও ফেডারেল আদালতে স্থগিত হলো।