ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইরানের প্রভাবশালী এই সামরিক বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি এ দাবি করে। বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। তাই ইরাকের পর পুরো অঞ্চল থেকেই মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা উচিত।
আইআরজিসি বলেছে, "যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের হাতেই দিতে হবে।"
সংগঠনটির দাবি, দুই দশকের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বরং তাদের মতে, এই উপস্থিতিই নিরাপত্তাহীনতা, সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতার অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছিল।
ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও বিবৃতিতে তুলে ধরেছে আইআরজিসি।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, মার্কিন কর্তৃপক্ষের নিজেদের হিসাব অনুযায়ীও ইরাকে দুই দশকের সামরিক হস্তক্ষেপে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে আইআরজিসির ভাষ্য, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
এ ছাড়া ইরাক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
আইআরজিসির ভাষ্য, দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক হস্তক্ষেপের পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের এমন এক সময়ে প্রত্যাহার করতে হয়েছে, যখন দেশটির জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
তবে বিবৃতিতে উল্লিখিত মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা ও আর্থিক ব্যয়ের দাবিগুলো আইআরজিসির বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।