সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম না মানার অভিযোগে তিন গবেষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তদন্তে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের নাম প্রকাশ করেনি ওপেনএআই।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি’র প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ওই তিনজনের কর্মকাণ্ডে কোম্পানির নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে। একইসঙ্গে নীতিমালার লঙ্ঘন ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যা তাদের কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বরখাস্ত হওয়া তিন গবেষক হিসেবে জেসমিন ওয়াং, তোমেক কোরবাক ও মিকিতা বালেসনির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য জানতে এএফপি যোগাযোগ করলেও কেউ কোনো মন্তব্য করেননি।
তিন গবেষকই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এআইয়ের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করছিলেন।
১০ সেপ্টেম্বর মিকিতা বালেসনি লিখেছিলেন, তিনি ওপেনএআইয়ে কাজ করেন এবং এআইয়ের কারণে সবাই মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে তার মনে হয়। এআই খাতের আরও কয়েকজন কর্মীও সম্প্রতি প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন।
ওপেনএআইয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন তোমেক কোরবাক। গত ১১ সেপ্টেম্বর তিনি লিখেছিলেন, ‘ওপেনএআই যা করছে, তার অনেক কিছুতেই আমি বেশ অসন্তুষ্ট। তবে আমি খুবই খুশি যে এ কথা বলার সুযোগ আমাকে দেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে শক্তিশালী এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতার মধ্যে এসব প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে। বিশেষ করে এআইয়ের উন্নয়ন মানবজাতির জন্য ভবিষ্যতে অস্তিত্বের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
গত মাসে অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করেন ২৭ বছর বয়সী এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন। পদত্যাগের সময় তিনি বলেন, “ওপেনএআইসহ শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে এবং তারা ‘আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে’।”
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এআই মডেলের নিরাপত্তা নিয়ে আরও কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। ওপেনএআই তাদের নতুন ‘অ্যাস্ট্রা ৬.১’ মডেল প্রকাশের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরীক্ষায় দেখা গেছে, মডেলটি বিশ্বস্ত নয় এবং এতে নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতাও ছিল।