যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ রাজ্যে ছড়িয়েছে হাম, জরুরি অবস্থা ঘোষণা নিউইয়র্কে

যুক্তরাষ্ট্রে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হামের সংক্রমণ। চলতি বছরে দেশটির ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩,৯০০ জনের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের পর যুক্তরাষ্ট্রে এটাই হামের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব বলে জানা গেছে।
 
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। 

পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল সোমবার (৫ অক্টোবর) অঙ্গরাজ্যটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। নিউইয়র্কে বর্তমানে ১০৯ জন হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা ২০১৯ সালের প্রাদুর্ভাবের পর সর্বোচ্চ।
 
পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহে সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়েছে।  

এদিকে, প্রাদুর্ভাবে প্রাণহানি নিয়ে কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ হামজনিত কারণে পাঁচ জনের মৃত্যুর দাবি করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এখন পর্যন্ত কেবল দুটি মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র পেনসিলভানিয়ার মৃত্যুর হিসাবকে মনগড়া বলে আখ্যা দেন। একইসঙ্গে তিনি সিডিসি-কে মৃত্যু গণনা পদ্ধতি পরিবর্তনের নির্দেশ দেন।
 
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা নিয়ে অপপ্রচার ও ভুল তথ্যের প্রভাবেই এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সিডিসির উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু ও কিশোর-কিশোরী। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ছয় মাসে প্রায় ১,০০০ জন এবং ইউটাহতে ৭২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১০টি অঙ্গরাজ্যে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি শিশুদের টিকাদানের হার ৯৫%-এ পৌঁছেছে। হাম যাতে সহজে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তা নিশ্চিত করতে এই মাত্রার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা প্রয়োজন। 

হামের টিকা কার্যকর - এটি প্রমাণিত। টিকা দেওয়ার পর ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বোস্টনের চিকিৎসা গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক সংক্রমণ বজায় থাকলে এ বছরই দেশটি ঐতিহাসিক সেই হাম নির্মূল-এর মর্যাদা হারিয়ে ফেলতে পারে। 

চলতি সংকটের আশঙ্কাজনক গতি পরিবর্তন করতে মে মাসে প্রকাশিত গবেষকদের এক চিঠিতে জরুরি তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, মহামারি রুখতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, টিকা না নেওয়ার ছাড়পত্র কমানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।