বিদেশি কর্মী নিয়োগে মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি সংক্রান্ত জটিলতার জেরে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের স্থায়ী নিয়োগে মাইক্রোসফট ও টাটাসহ প্রযুক্তি খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, “আটটি প্রতিষ্ঠান বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো - মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনি।”

সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ভ্যান্সের ভাষ্য, মাইক্রোসফটের মতো আর কোনো কোম্পানি এ ভিসাব্যবস্থার এতটা অপব্যবহার করেনি তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের বাদ দিয়ে বিদেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে মাইক্রোসফট।

একই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী কিথ সোন্ডারলিং জানান, পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামের (পিইআরএম) আওতায় ওই আট প্রতিষ্ঠানের নতুন ও চলমান আবেদন আর প্রক্রিয়া করা হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় পিইআরএম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ৮৫,০০০ এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে আটটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  

এর আগে মাইক্রোসফটের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, “গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির করা এইচ-১বি ভিসার আবেদনের ৮০% ছিল আগে থেকে কর্মরত কর্মীদের জন্য। অর্থাৎ, এসব আবেদন নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য করা হয়নি।

অন্যদিকে, ভ্যান্সের অভিযোগ, গত অর্থবছরে মাইক্রোসফট প্রায় ৬,০০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে। অথচ একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি এইচ-১বি ভিসার জন্য ৬,৮০০টি আবেদন করেছে।

মার্কিন কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশি কর্মী নিয়োগ এবং তাদের কম মজুরি দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন ভ্যান্স।

বিশ্বজুড়ে মাইক্রোসফটে দুই লাখের বেশি কর্মী কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কর্মীদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।