ইন্টারনেট বন্ধ, হোটেল ঘুরে ঘুরে কমবয়সিদের খুঁজছে পুলিশ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীতে ৪০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা। একই সঙ্গে দিল্লির বিভিন্ন হোটেল, গেস্ট হাউসে গিয়ে তরুণ-তরুণীদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিতে এ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘যন্তর মন্তর ২.০’।

জনসমাগমের আশঙ্কায় শুক্রবার রাত থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যন্তর মন্তরের আশপাশে পুলিশের মাইকিং শুরু হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে বিস্তীর্ণ এলাকায় বড় জমায়েতসহ বিভিন্ন কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার কথা। এ বিষয়ে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৬টা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করা হতে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে রাস্তায় বের না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মেট্রো চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রথমে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সারাদিন দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, কোনো আন্দোলন ঠেকাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করা যাবে না। এরপর দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন নির্দেশনা পরিবর্তন করে ৫৭টির পরিবর্তে ৪৫টি স্টেশন শনিবার দিনভর বন্ধ রাখার কথা জানায়।

এ ছাড়া শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল, এমন সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের ১৫ হাজারের বেশি সদস্যের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর অন্তত ২৬ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ থেকে আরও পাঁচ হাজার নিরাপত্তাকর্মী দিল্লিতে মোতায়েনের কথা রয়েছে।

নয়াদিল্লিকে ২০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে রয়েছেন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। আন্দোলনকারীদের মিছিল আসতে পারে, এমন ৩৭টি স্থান চিহ্নিত করে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদেরও রাখা হয়েছে।

পুলিশ দিল্লির বিভিন্ন হোটেল, গেস্ট হাউস, হস্টেল ও পেইং গেস্ট আবাসনে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে অন্য এলাকা থেকে এসে দিল্লিতে অবস্থান করছেন, এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে একসঙ্গে থাকা তরুণ-তরুণীদের দলকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

যন্তর মন্তরের আশপাশে মাইকিং করে বড় জমায়েত ও অন্যান্য নিষিদ্ধ কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, সিজেপি ও অন্যান্য আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে মুম্বাই থেকে রাতে জানিয়েছেন, শনিবার সকালে তিনি দিল্লি পৌঁছাবেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। তবে তার গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আন্দোলন যেন থেমে না যায়, সে আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।