মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চরম উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয়বারের মতো ভারত সফরে এলেও এবার দেশটির রাজধানী নতুন দিল্লিতে পা রাখছেন না তিনি। এর পরিবর্তে সোমবার বাণিজ্য ও জ্বালানি নিয়ে আলোচনার জন্য পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মুম্বাইয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সেখান থেকে তার গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) হিন্দুস্থান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাতে জানা যায়, রুবিওর এই সফরের মূল লক্ষ্য জ্বালানি খাত, বাণিজ্য এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি। জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বৃহৎ তেল শোধনাগারটি বর্তমানে মার্কিন জ্বালানি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মূলত ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে রিলায়েন্সের নতুন বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টিই এই সফরের প্রধান অনুঘটক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সফরের প্রেক্ষাপট ঘিরে বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরের এক মন্তব্যে। তিনি জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে মুম্বাইয়ে উপস্থিত থাকার প্রত্যাশা জানিয়েছে।
স্বদেশের মাটিতেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এভাবে ডেকে পাঠানোকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দেশটির বিরোধী দলীয় নেতারা। বিষয়টিকে মোদি সরকারের চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিরোধী দল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী খোঁচা মেরে বলেন, “মার্কো রুবিও যেন মুম্বাইয়ে তার কোনো কর্মচারীকে তলব করেছেন।”
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী লেখেন, “জনাব রুবিও মুম্বাইয়ে তার কর্মচারীকে তলব করেছেন। মোদিজি, আপনার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ঠিক কী ঘটছে তা নিয়ে বেশ বিভ্রান্ত। আপনি হয়তো বিষয়টি তাদের বুঝিয়ে বলতে পারেন, অবশ্য যদি না আপনি চান যে আমিই এটি ব্যাখ্যা করি”
বাণিজ্যিক শুল্ক, রুশ তেল আমদানি বন্ধে ওয়াশিংটনের ক্রমাগত চাপ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক ভিসা ইস্যুতে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখনই মার্কিন মন্ত্রীর এই সফর ও ঢাকঢোল পিটিয়ে জয়শঙ্করকে ডেকে পাঠানোর ঘটনাটি দিল্লির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।