ফ্রান্সে চলমান তীব্র দাঙ্গা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রীয় অংশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু এলাকায় জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে বিশেষ আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে চলমান এই সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলায় প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগ এবং দোকানপাটে লুটপাটের ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম ও জনসেবার অবনতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, যা পরবর্তীতে ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ ও লিলের মতো বড় শহরগুলোতেও নানা ধরনের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে এই সহিংসতার জন্য যারা দায়ী, তাদের কাছ থেকে আইনগতভাবে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি।
ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো জানান, চলমান সংঘাতে দুই হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে সহিংসতার মুখে কয়েকটি শহরে পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দায় নিয়ে পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।