মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে লাশ রেখে বিক্ষোভ

মণিপুরের রাজধানী ইমফালের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচান্দ সিংয়ের সরকারি বাসভবনের সামনে একটি লাশ রেখে তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে জঙ্গলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্দেহভাজন কুকি উগ্রপন্থীদের গুলিতে দুই মেইতেই যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে ইমফাল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া একটি দলের ওপর অতর্কিত গুলি চালায় উগ্রপন্থীরা। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ব্যক্তি নিহত হন এবং চারজন আহত হন। এছাড়া এই ঘটনায় আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন। নিহতরা হলেন, অরুবাম রনিল (৩৫) এবং লাইরেনলাকপাম ইনোবি (৫১)।

খংবাল সুনুরোক উইয়ক এলাকায় ১৪ জনের একটি দল পাহাড়ে কাঠ সংগ্রহ করতে গেলে এই অ্যাম্বুসের শিকার হয়। ক্ষুব্ধ জনতা একটি মরদেহ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের গেটের সামনে এনে বিক্ষোভ শুরু করলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা অবাক হয়ে যান। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে টিয়ার গ্যাস ছুড়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে জওহরলাল নেহেরু ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (জেএনআইএমএস)-এ পাঠানো হয়। ঘটনার সময় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে তিনি উপস্থিত ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মণিপুর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজিপি) লহারি ডোরজে লাথু এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, রবিবার রাত থেকে সোমবার সকালের মধ্যে রাজ্যে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। থৌবাল থানার খাঙ্গাবোক পালি বাজারে একটি মিউজিক্যাল নাইটে পাথর নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স, সিআরপিএফ ও আসাম রাইফেলস মোতায়েন করা হয়।