এবার ‘ফাদার অব অল বোমস’ উন্মোচনের ঘোষণা ইরানের

‘ফাদার অব অল বোমস’ নামে নতুন একটি অতি-বিধ্বংসী অস্ত্র উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ প্রায় দেড় গুণ বেড়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ইরানের বার্তা সংস্থা ‘ইয়াং জার্নালিস্টস ক্লাব’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি এসব তথ্য জানান।

বিবৃতিতে মোহেব্বি বলেন, “আমরা ‘ফাদার অব অল বোমস’ উন্মোচনের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছি। এটি শত্রুপক্ষের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক বিস্ময় হবে।” তবে নতুন এই অস্ত্রের ধরন বা ধ্বংসক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।

এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’ (এমওএবি) বা ‘মাদার অব অল বোমস’ নামে পরিচিত ৯ হাজার ৮০০ কেজি ওজনের অতি-শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের পরপরই ইরান নিজেদের নতুন অস্ত্রের খবর সামনে আনল।

আইআরজিসি মুখপাত্র জানান, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ আগের চেয়ে দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না দিলেও তিনি বলেন, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা হয়েছে। এগুলোর পাল্লা, ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা বহুলাংশে বেড়েছে।”

ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির আমূল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মোহেব্বি বলেন, তেহরান এখন স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ছিল পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক, অর্থাৎ কেউ আক্রমণ করলে কেবল জবাব দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান নীতি অনুযায়ী, কোনো দেশ আক্রমণ করলে ইরান কেবল রক্ষাত্মক জবাবই দেবে না, বরং শত্রুকে সরাসরি আক্রমণ করে চরম শিক্ষা দেবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে একযোগে সামরিক অভিযান শুরু করলে জবাব হিসেবে ইরানও ইসরায়েল এবং আরব অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাটিগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালায়। পরবর্তীতে জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায়।