তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’

তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘চাম্পি’। ঝড়ের আশঙ্কায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দ্বীপটির বেশির ভাগ দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট ঢেউয়ে ভেসে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।  

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চল অতিক্রম করে চীন ও জাপানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর প্রভাবে ওই অঞ্চলে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ঝড়ের আশঙ্কায় বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১,১০০ জনের বেশি মানুষ। 

জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সময় টাইফুন চাম্পি অল্প সময়ের জন্য সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছিল। পরে এর শক্তি কমে আসে। বর্তমানে ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭৬ কিলোমিটার।  

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ও শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাইওয়ানে ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য হাজারো সামরিক সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দ্বীপটির প্রায় সব এলাকায় কাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

উত্তর ও উত্তর-পূর্ব তাইওয়ানের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। ঝড়ের মধ্যে নিরাপদ থাকতে বাসিন্দারা ঘরে অবস্থান করছেন।

টাইফুন চাম্পি প্রশান্ত মহাসাগরে চলতি মৌসুমের সর্বশেষ ঝড়। এল নিনোর প্রভাবে এ মৌসুমে প্রশান্ত মহাসাগরে ঝড়ের তৎপরতা বেড়েছে।

জাতিসংঘ বুধবার জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করা এল নিনো পরিস্থিতি অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেওয়ার  আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

চলতি বছরের ডিসেম্বরে এল নিনোর প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে এর প্রভাব ২০২৭ সাল এবং তারপরও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এ সময় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে খরা ও বন্যা হতে পারে।