জার্মানিজুড়ে পূর্ব নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার তরুণ। জেন-জি রেগেল্ট (জেন-জি দায়িত্ব নিচ্ছে) এই দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দিনের বেলা বিক্ষোভ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু সন্ধ্যা নামতেই কয়েকটি শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
বার্লিনে পুলিশের হিসাবে ব্রান্ডেনবুর্গ গেটে প্রায় ৫,০০০ মানুষ জড়ো হন, যদিও আয়োজকদের দাবি ১০,০০০ মানুষ অংশ নিয়েছে। হামবুর্গে অংশ নেন প্রায় ৬,৭০০ জন।
আয়োজকদের দাবি, ৩৪টি শহরে প্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে পুলিশের হিসাব বলছে, বেশিরভাগ শহরে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম ছিল।
বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল উন্নত স্কুল ব্যবস্থা, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় থেকে মুক্তি এবং আরও উন্নত সামাজিক ন্যায়বিচার। জার্মানির সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং নতুন করে সেনা নিয়োগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। তাদের আশঙ্কা, এটি বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ফিরিয়ে আনার পথে একটি পদক্ষেপ। কেউ কেউ চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের পদত্যাগের দাবি সম্বলিত ব্যানারও বহন করেন।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা যায় ফ্রাঙ্কফুর্টে। সেখানে দাঙ্গাকারীরা দোকানের কাচ ভাঙচুর করে, শপিং স্ট্রিটে লুটপাট চালায় এবং পুলিশের দিকে ‘মলোটভ’ ককটেল ছোড়ে। সেখানে প্রায় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই হামলার জন্য প্রায় ১০০ জন বামপন্থি উগ্রবাদীকে দায়ী করেছেন।
কোলনে ক্যাথিড্রালের কাছে প্রায় ২০০ জন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, ছুড়ে মারে বোতল ও সাইকেল। বার্লিনে সন্ধ্যাকালীন সমাবেশ ভেঙে দেয় পুলিশ। সেখানে পাথর নিক্ষেপে ২৭ জন পুলিশ সামান্য আহত হন এবং ৫৬ জন বিক্ষোভকারীকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়। হামবুর্গ, ব্রেমেন ও বনেও অস্থিরতার খবর পাওয়া গেছে।
পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেন-জি বিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, সংঘর্ষগুলোর পেছনে ছিল মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি।
জার্মানির এই বিক্ষোভ ইউরোপজুড়ে চলা তরুণদের আন্দোলনের অংশ, যার সূচনা ফ্রান্সের ছাত্র বিক্ষোভ থেকে। শিক্ষা গবেষক নিনা কোলেক সতর্ক করে বলেছেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের বাদ দিলে তারা পপুলিস্ট দলগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
বিক্ষোভের আগে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছিল, চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলো এই বিক্ষোভের মধ্যে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। তবে পরবর্তীতে পুলিশ জানিয়েছে, অনেক শহরেই বিক্ষোভের শুরুটা ছিল শান্তিপূর্ণ।
কোলন শহরে অংশগ্রহণকারীদের মুখ ঢাকা থাকা এবং আতশবাজি ব্যবহারের কারণে পুলিশ পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রাটি বাতিল করে দেয়। তবে রাইন নদীর তীরে সমাবেশ হয়।
স্টুটগার্টে অংশগ্রহণকারীদের মুখ ঢাকা থাকা, আতশবাজি ব্যবহার করা এবং নির্ধারিত পথ থেকে সরে যাওয়ার কারণে পুলিশ বারবার পদযাত্রাটি থামিয়ে দেয়।
সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বিক্ষোভের আয়োজকরা সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সহিংসতার আতঙ্ক ছড়ানোর এবং তাদের মূল দাবিগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
আন্দোলনের মুখপাত্র ভেরোনিকা ডিনটার জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম ডয়েচলান্ডফুংক-কে বলেন, “আমাদের মূল দাবিগুলো থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য একটি ‘সহিংসতার বয়ান’ ব্যবহার করা হচ্ছে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জেন-জি রেগেল্ট (জেন-জি দায়িত্ব নিচ্ছে) শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে। তিনি তাদের নীতিমালার সঙ্গে যারা একমত, তাদের সবাইকে স্বাগত জানান।
বিক্ষোভের আয়োজকদের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে অস্পষ্টতায় উদ্বেগের কথা জানিয়ে জার্মানির জাতীয় স্কুল শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সংস্থা এই আন্দোলন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়েও দুঃখ প্রকাশ করেন ডিনটার।
অনলাইনে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এতে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যদিও বাস্তবে কতজন উপস্থিত হয়েছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।