আজ নির্ধারণ হবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী নীতি ও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের মেয়াদের মাঝপথে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ‘মিডটার্ম’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট পদে কোনো রদবদল না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা ‘কংগ্রেসের’ নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে এই ভোটের মাধ্যমে।

এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নকক্ষ ‘হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’ বা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং উচ্চকক্ষ সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। ৩৫টি সেনেট আসনের মধ্যে ৩৩টিতে নিয়মিত এবং বাকি দুটিতে ফ্লোরিডা ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যের খালি হওয়া আসনে বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, স্থানীয় আইনপ্রণেতা ও স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচনেও ভোট দেবেন ভোটাররা।

বর্তমানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট দলের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের মেয়াদ ২ বছর এবং সেনেটরদের মেয়াদ ৬ বছর হওয়ায় প্রতি দুই বছর অন্তর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেনেটে ক্ষমতার ভারসাম্য বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যেকোনো দলের অন্তত ৫১টি আসন প্রয়োজন। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নির্ধারণ ও প্রস্তাবিত বিল পাসে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৬ সালের পর থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে প্রায় সাড়ে ২৬টি আসন হারিয়েছে। প্রেসিডেন্টের সার্বিক কাজের মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত এই নির্বাচনে কেবল ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাই নয়, বরং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন নীতি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত দিনে সশরীরে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি আগাম ভোট এবং পোস্টাল বা ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর সুবিধা রয়েছে। ইতিমধ্যে কোটি কোটি ভোটার এই প্রক্রিয়ায় নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নিবন্ধিত ভোটারদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই ভোটের গণনা শেষে দ্রুতই স্পষ্ট হবে মার্কিন রাজনীতির আগামী দিনের ক্ষমতার সমীকরণ।