১৯০ শিশুসহ ১৯১ জনের অনাহারে মৃত্যু: কেনিয়ার ধর্মীয় নেতার ২০০ বছরের কারাদণ্ড

"পৃথিবীর শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে, বাঁচার একমাত্র পথ স্বর্গে যাওয়া, আর স্বর্গে যেতে হলে পরিবারসহ অনাহারে থাকতে হবে" এমন নির্দেশ দিয়ে ১৯০ শিশুসহ ১৯১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় কেনিয়ার ধর্মীয় নেতা পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপকূলীয় শহর মোম্বাসার একটি আদালত এই সাজা ঘোষণা করেন। এর দুই সপ্তাহ আগে ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। অনাহারে হত্যার দায়ে ১০০ বছর এবং সরাসরি হত্যার দায়ে আরও ১০০ বছর, মোট ২০০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, ম্যাকেঞ্জি তার পরিচালিত গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল চার্চের মাধ্যমে একটি খ্রিষ্টান ধর্মীয় গোষ্ঠী গড়ে তোলেন। পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আগে স্বর্গে যাওয়ার কথা বলে অনুসারীদের নিজেদের ও সন্তানদের অনাহারে থাকার নির্দেশ দিতেন তিনি।

সেই নির্দেশ কার্যকর করতে তার সহযোগীরা ভয়ভীতি ও নির্যাতনের আশ্রয় নিতেন। নির্দেশ অমান্য করতে চাইলে অনুসারীদের মারধর করা হতো। এভাবে ভয় দেখিয়ে তাদের অনাহারে থাকতে বাধ্য করা হতো বলে জানান আইনজীবীরা।

২০১৯ সালে কর্তৃপক্ষ ম্যাকেঞ্জির চার্চ বন্ধ করে দিলে তিনি শাকাহোলা বনে চলে যান। সেখানে অনুসারীদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে এবং অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে নিষেধ করতেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানকে তিনি শয়তানের প্রতিষ্ঠান বলে অভিহিত করতেন।

২০২৩ সালে পুলিশের কাছে খবর পৌঁছালে ম্যাকেঞ্জিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পর দক্ষিণ-পূর্ব কেনিয়ার শাকাহোলা বনে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। সেখানে অগভীর গণকবর ও শৌচাগারের গর্ত থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কয়েকজনকে জীবন্ত কবর দেওয়ার প্রমাণও মেলে।

সব মিলিয়ে ওই বন থেকে ৪০০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ মরদেহ পচে যাওয়ায় মাত্র ২৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এ ছাড়া আরও ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে।

ম্যাকেঞ্জি হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি কাউকে অনাহারে থাকতে বাধ্য করেননি। আদালত তার এ দাবি গ্রহণ করেননি। শাকাহোলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে, যেগুলোও তিনি অস্বীকার করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, কারাগারে থাকা অবস্থায়ও ম্যাকেঞ্জি কোয়া বিনজারো গ্রামের ৫২ জনের মৃত্যুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা চলছে।

এই হত্যাকাণ্ডের পর কেনিয়ায় চার্চ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে। দেশটির জনজীবনে ধর্মবিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।