ইকুয়েডরে ভূমিধসে নিহত অন্তত ২৪, নিখোঁজ ১২

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোতে ভূমিধসে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং আরও ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে শহরটির মেয়র সান্তিয়াগো গার্ডেরাস ছেন।

মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৮ জন আহত হয়েছেন।

দেশটির উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার পর ভূমিধসটি ঘটেছে। ভূমিধসের পর কাদার নিচে ডুবে যাওয়া বাড়িঘর এবং রাস্তাগুলোতে এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

গত ৩১ জানুয়ারি রাতে প্রবল বৃষ্টির কারণে লা গাসকা এবং লা কমুনা শ্রমজীবী অঞ্চলগুলোতে ভূমিধস হয়। ভূমিধসের কারণে সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকেও বিঘ্নিত হয়েছে।

আলবা কোটাকাচি নামে এক স্থানীয় বলেন, “হঠাৎ করেই নদীর পানি বেড়ে আমাদের টেনে নিয়ে যেতে শুরু করে, তখন আমাদের পালানোর জন্য দেয়াল বেয়ে উঠতে হয়েছিল। আমি আমার দুই মেয়েকে এখান থেকে অন্য স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছি, এখন নিখোঁজদের খুঁজছি।"

রয়টার্সের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একজন ব্যক্তি রাস্তায় নেমে আসা কর্দমাক্ত পানি থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করছেন। এ সময় সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও লোকটি ভেসে যায়।

জানা গেছে, মেয়রের কার্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শহরের রাস্তাগুলো থেকেও কাঁদা পরিষ্কার করা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইকুয়েডরের বেশ কয়েকটি এলাকা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্মুখীন হচ্ছে, যার ফলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আশেপাশের শত শত বাড়ি ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধুমাত্র গত ৩১ জানুয়ারিতেই রাজধানী কুইটোতে প্রতি বর্গমিটারে ৭৫ লিটারের সমান বৃষ্টি হয়েছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।